ভোটার তালিকা ২০২৫: ৭.০৮ কোটি নাম থাকলেও সবাই পাবেন না ভোটদান অধিকার

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসন্ন ২০২৫ সালের খসড়া ভোটার তালিকায় রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা সাত কোটি আট লক্ষে পৌঁছেছে। তবে এই বিশাল তালিকার প্রতিটি নামই ভোট দেওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে উপযুক্ত নয় বলে জানা গেছে। ভোটার তালিকার এই আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও আইনি কারণে অনেক নাগরিকের ভোটাধিকার কার্যকর হবে না। বিশেষ করে যারা দ্বৈত নাগরিকত্ব বা দীর্ঘকালীন অনুপস্থিতির কারণে চিহ্নিত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ স্ক্রুটিনি চালানো হচ্ছে। তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে এবারের বিশেষ গুরুত্ব ছিল তরুণ ভোটারদের ওপর। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া লক্ষাধিক নতুন আবেদনকারী এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। তবুও মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং ভুল সংশোধনের কাজ এখনও অনেক জায়গায় অসমাপ্ত রয়ে গেছে। ফলে কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই ৭.০৮ কোটির পুরো অংশটি সক্রিয় ভোটার হিসেবে গণ্য হবে না। জেলাশাসকদের দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কলকাতা শহরে ভোটারের সংখ্যা স্থিতিশীল থাকলেও শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকায় এই হার ঊর্ধ্বমুখী। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ জুড়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। প্রতিটি বুথ স্তরে বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসাররা উপস্থিত থাকবেন ভোটারদের অভিযোগ ও সংশোধনী গ্রহণ করার জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সাথেও এই খসড়া তালিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, তালিকায় যেন কোনো বিজাতীয় বা ভুয়া নাম না থাকে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অনেক সময় মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকায় থেকে যায়, যা সরাতে এআই চালিত বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের চিন্তাভাবনাও চলছে। ভোটার কার্ডের সাথে আধার কার্ড সংযোগের প্রক্রিয়াটি বাধ্যতামূলক না হলেও, এটি তালিকা বিশুদ্ধিকরণে বড় ভূমিকা পালন করছে। আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই ৭.০৮ কোটি ভোটারের পরিসংখ্যানটি কেবল একটি খসড়া হিসেবেই বিবেচিত হবে। সাধারণ নাগরিকরা অনলাইনে বা সরাসরি স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটি ও ব্লক অফিসে গিয়ে তাদের নামের স্থিতি যাচাই করতে পারবেন। কমিশনের লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত তালিকা তৈরি করা যাতে আসন্ন প্রতিটি নির্বাচনে প্রতিটি বৈধ নাগরিক তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচনের সময় বুথ জ্যাম বা ভুয়া ভোটের যে অভিযোগ ওঠে, তা মূলত এই ভোটার তালিকার ত্রুটির কারণেই হয়ে থাকে। সেই সম্ভাবনা রুখতেই কমিশন এবার বিশেষ কড়াকড়ি করছে।