পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিস্থিতির আবহে ফের একবার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায় কৌশলী পদ্ধতিতে ‘সাইলেন্ট রিগিং’ বা অদৃশ্য কারচুপি করা হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে অদৃশ্য চাপের রাজনীতি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। বিশেষ করে একজন বিধায়ককে নজরবন্দি বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ রাখার বিষয়টি নিয়ে শাসক দল প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিরোধীরা গণতান্ত্রিক পন্থায় লড়াই করতে না পেরে এখন পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে কমিশনকে আরও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের বাইরে এবং ভেতরে ভোটারদের ভয় দেখানোর নতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। এই কৌশলটি প্রথাগত রিগিংয়ের চেয়ে আলাদা হলেও এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। বিধায়ককে যেভাবে প্রশাসনিক মারপ্যাঁচে আটকে রাখা হয়েছে, তাকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, বাংলার মানুষ এই ধরণের কারচুপি কখনোই মেনে নেবে না। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের পাল্টা দাবি, পরাজয়ের ভয়ে তৃণমূল এখন থেকেই অজুহাত খুঁজতে শুরু করেছে। তবে পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। নজরবন্দি বিধায়ক প্রসঙ্গে দলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এর যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি হলে তা সামগ্রিক ব্যবস্থার জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তৃণমূলের মূল অভিযোগের তীর মূলত কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিকদের দিকে। তাদের মতে, কোনো সঠিক কারণ ছাড়াই বিধায়ককে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে যাতে তিনি সংগঠনের কাজে অংশ নিতে না পারেন। এটি সরাসরি নির্বাচনে প্রভাব ফেলার একটি ষড়যন্ত্র। সারা রাজ্যে যখন বিভিন্ন দফায় ভোটগ্রহণ চলছে, তখন এই ধরণের অভিযোগের গুরুত্ব অপরিসীম। তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্যপ্রমাণ সহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করবে। রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে তাদের বার্তা, কোনো ধরণের উস্কানি বা অদৃশ্য চাপে মাথা নত না করে নির্ভয়ে ভোট দিতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরণের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নির্বাচনের প্রতিটি দফাতেই আরও তীব্রতর হতে পারে। বিশেষ করে এমএলএ-র বিষয়টি আইনি মোড় নেওয়ায় এটি এখন আর কেবল রাজনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের রণকৌশল অনুযায়ী, তারা এই ইস্যুটিকে জনগণের দরবারে নিয়ে গিয়ে সহানুভূতি এবং জনমত গড়ে তুলতে চাইছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে ‘সাইলেন্ট রিগিং’ শব্দটি এখন একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।







