কেজরিওয়ালের যন্তর মন্তর সমাবেশ: মোদী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুতির হুঁশিয়ারি

রাজধানীর রাজপথে পুনরায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ালেন আম আদমি পার্টির (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, এই সরকারের দিন ফুরিয়ে এসেছে। কেজরিওয়ালের মতে, কেন্দ্রের বর্তমান ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী দেশের মানুষের উন্নয়ন বা কল্যাণের চেয়ে নিজেদের গদি রক্ষা করতেই বেশি ব্যস্ত। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর অন্যতম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি, যেখানে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর নীতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের ভিড় দেখে উজ্জীবিত কেজরিওয়াল বলেন, ‘বিজেপি আজ দাম্ভিক হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছে যে তাদের কেউ সরাতে পারবে না। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আছে, যখনই কোনো শাসক জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখনই তাদের পতন অনিবার্য হয়।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আবগারি নীতি মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে, তাঁকে আটকে রাখার সবরকম চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সত্যের জয় হয়েছে। আম আদমি পার্টির প্রধান স্পষ্ট করে দেন যে, আসন্ন নির্বাচনে দিল্লির মানুষ বিজেপির এই ‘অগণতান্ত্রিক’ আচরণের জবাব দেবে। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্ব ইস্যুও। তিনি দাবি করেন, মোদী সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কেটে পুঁজিপতিদের সুবিধা দিচ্ছে। সমাবেশে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সহ আপের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কেজরিওয়াল বলেন, ‘ওরা আমাকে ভাঙতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছি। দিল্লির উন্নয়নের কাজ থমকে দিতে বিজেপি বারবার বাধা সৃষ্টি করছে, কিন্তু আপ কর্মীরা পিছিয়ে পড়বে না।’ তিনি উপস্থিত জনতাকে দিল্লির প্রতিটি ঘরে গিয়ে বিজেপির দুর্নীতির কথা প্রচার করার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেজরিওয়ালের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে লড়াই অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। আপ নেতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে এই একনায়কতান্ত্রিক সরকারের অবসান ঘটানো জরুরি। তিনি মনে করেন, বিজেপি এখন আদর্শহীন একটি দলে পরিণত হয়েছে যেখানে কেবল ক্ষমতার রাজনীতিই শেষ কথা। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি সুর চড়ান। আজকের এই সমাবেশকে ঘিরে যন্তর মন্তর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। কেজরিওয়ালের প্রতিটি বাক্য ছিল শাণিত, যা মূলত বিজেপির দীর্ঘদিনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্তৃতার শেষে তিনি স্লোগান তোলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, যা উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, বিজেপির শেষের শুরু হয়ে গেছে এবং দেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।