নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজ্যের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বীরভূম, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের রুট মার্চ করতে দেখা যায়। বিশেষ করে গত নির্বাচনে যে সমস্ত এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই এলাকাগুলোকে এবার ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। মূলত ভোটারদের মনে ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বার্তা দিতেই এই কুচকাওয়াজ। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দিন ঘোষণার অনেক আগে থেকেই এই বাহিনী মোতায়েন করার উদ্দেশ্য হলো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কোনো প্রকার বহিরাগত প্রভাব রুখে দেওয়া। প্রতিটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রুট ম্যাপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী বাহিনী টহল দিচ্ছে। গ্রামবাংলার অলিগলি থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ততম রাস্তা—সর্বত্রই জওয়ানদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, কেবল রুট মার্চ করলেই হবে না, বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে বুথস্তরে সন্ত্রাস রোধ করা যায়। অন্যদিকে, শাসক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে এবং বাহিনীর এই সক্রিয়তাকে স্বাগত জানায়। মুর্শিদাবাদের ডোমকল এবং বীরভূমের নানুরের মতো এলাকায় বাহিনীর বিশেষ নজরদারি রয়েছে। ড্রোন ব্যবহার করে দুর্গম এলাকাগুলোতেও নজর রাখা হচ্ছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন কোনো গতিবিধি লক্ষ্য করলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাহিনীর রুট মার্চের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিংয়ের কাজও জোরদার করা হয়েছে। রাতে যাতে কোনো অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বা টাকা ঢুকতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে রাজ্যে আসা কোম্পানির সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে যাতে প্রতি দফার নির্বাচনে পর্যাপ্ত বাহিনী মজুত থাকে। জওয়ানরা কেবল পথেই থাকছেন না, তারা এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছেন। এর ফলে ভোটের দিন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা বাহিনীর পক্ষে সহজ হবে। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বাহিনীর আবাসন ও যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। রুট মার্চের সময় সাধারণ মানুষকে তাদের যেকোনো সমস্যার কথা বাহিনীকে জানাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে এবং আগামী কয়েক দিনে নজরদারি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।








