ওমান উপকূলের অদূরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাগরিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, ‘MKD VYOM’ নামক ওই জাহাজটি যখন ওমান উপকূল দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই একটি চালকহীন নৌকা বা আনম্যানড বোট (Unmanned Boat) সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এই অতর্কিত আঘাতের ফলে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই ড্রোন বোটটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু হিসেবেই জাহাজটিকে বেছে নিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার ছায়া এবার সমুদ্রপথেও দীর্ঘতর হতে শুরু করেছে। গত কয়েক মাস ধরেই পারস্য উপসাগর এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই নির্দিষ্ট হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ধরণ দেখে সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি অপারেশন ছিল। এমকেডি ব্যোম নামক ওই জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে যখন বিস্ফোরণ ঘটে, তখন সেখানে কর্তব্যরত ছিলেন বেশ কয়েকজন কর্মী। সেই মুহূর্তেই ভারতীয় ওই নাগরিক গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ওমান উপকূলরক্ষী বাহিনী ও আন্তর্জাতিক টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা উদ্ধারকাজে নামেন।
তবে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারীদের। সমুদ্রের মাঝখানে এই ধরণের নাশকতামূলক কাজ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড়সড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ওমান সাগরের এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এখানে বারবার এই ধরণের ড্রোন বা মিসাইল হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের আবহে এই হামলা কি কোনও বৃহত্তর প্রতিহিংসার অংশ, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও কোনও গোষ্ঠী এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে হামলার ধরণটি সাম্প্রতিক সময়ের ইরান-ইজরায়েল ছায়াযুদ্ধের কৌশলগুলোর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ইঞ্জিন রুমটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাহাজটি বর্তমানে মাঝসমুদ্রে বিকল হয়ে পড়ে আছে।
জাহাজের অন্যান্য ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর ওই রুট দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে এই ধরণের চোরাগোপ্তা হামলা রুখতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই ধরণের প্রাণঘাতী হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন বা মেরিটাইম ল-এর চরম লঙ্ঘন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ওই এলাকায় টহলদারি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে একাধিক দেশ।







