DMK-তে যোগ দিলেন পনিরসেলভম, তুঙ্গে তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকে বিতর্ক

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে-র চিরকালীন লড়াই সর্বজনবিদিত। তবে সাম্প্রতিককালে এই দুই যুযুধান শিবিরের মধ্যে যে ধরনের রদবদল লক্ষ করা যাচ্ছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। ও পনিরসেলভম বা ওপিএস-এর মতো একজন হাই-প্রোফাইল নেতার ডিএমকে শিবিরে নাম লেখানো কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। ওপিএস এক সময় জয়ললিতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আম্মার অনুপস্থিতিতে তিনি একাধিকবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু জয়ললিতার মৃত্যুর পর দলের অন্দরে ক্ষমতার লড়াইয়ে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবং ইডাপ্পাদি পালানিস্বামীর সঙ্গে সংঘাতের পর অবশেষে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

বর্তমানে নির্বাচনের মরশুমে পনিরসেলভমের এই অবস্থান পরিবর্তন তামিল রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। ওপিএস-এর অনুগামীরা মনে করছেন, এআইএডিএমকে-র আসল আদর্শ এখন ডিএমকে-র ছাতার নিচেই বেশি সুরক্ষিত। অন্যদিকে, রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, ডিএমকে পরিকল্পিতভাবে বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী নেতাদের নিজেদের শিবিরে টেনে আনছে। এর ফলে ডিএমকে-র সাংগঠনিক শক্তি যেমন বাড়ছে, তেমনই এআইএডিএমকে কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। ওপিএস-এর এই পদক্ষেপে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এই ‘ঘর ওয়াপসি’ বা রাজনৈতিক দলবদল তামিলনাড়ুর দ্বিমেরু রাজনীতির চরিত্র বদলে দিতে পারে।

ডিএমকে শিবিরের অভ্যন্তরেও এই নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। দলের অনেক পুরনো নেতা মনে করছেন, বিরোধী শিবিরের নেতাদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে দলের নিজস্ব আদর্শ ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন অত্যন্ত কৌশলে এই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। তিনি জানেন যে, ওপিএস-এর মতো নেতার সঙ্গে থাকা মানে দক্ষিণের জেলাগুলিতে বিশেষ করে থেভার সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ একে ‘এআইএডিএমকে উইদিন ডিএমকে’ বলে অভিহিত করছেন। অর্থাৎ, ডিএমকে-র কাঠামোর মধ্যেই এখন এআইএডিএমকে-র একটি প্রভাবশালী অংশ কাজ করছে।

ভোটের আগে এই মেরুকরণ পনিরসেলভমের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে। পালানিস্বামীর নেতৃত্বাধীন এআইএডিএমকে-কে শিক্ষা দিতেই তিনি স্ট্যালিনের হাত ধরেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পনিরসেলভম বারবার দাবি করেছেন যে, তিনি জয়ললিতার প্রকৃত উত্তরাধিকারী। এখন দেখার বিষয়, ডিএমকে-র প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তিনি নিজের সেই হারানো জমি কতটা ফিরে পান। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে নেতৃত্ব এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, বিশ্বাসঘাতকদের জন্য দলে কোনো জায়গা নেই এবং ওপিএস চলে যাওয়ায় দলের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। দক্ষিণ তামিলনাড়ুর একাধিক কেন্দ্রে পনিরসেলভমের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। ফলে ডিএমকে প্রার্থী বা জোট সঙ্গীদের জয়ের পথে ওপিএস ফ্যাক্টর বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। সব মিলিয়ে পনিরসেলভমের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ আগামী দিনের তামিল রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।