কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে একাধিক সংঘাত এবং যুদ্ধের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। চারিদিকে স্বজন হারানো হাহাকার আর ধ্বংসলীলার সংবাদ যখন প্রতিদিনের শিরোনাম দখল করছে, ঠিক তখনই দুবাই থেকে এল এক অত্যন্ত ইতিবাচক সংবাদ। কলকাতার এক প্রবাসী পরিবার তাদের নতুন সদস্যকে স্বাগত জানাল। যুদ্ধের খবর এবং মৃত্যুর মিছিলের মধ্যে এই নতুন প্রাণ পরিবারের সদস্যদের কাছে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, গত কয়েকদিন ধরেই তারা মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বেশ উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। একদিকে যুদ্ধের আতঙ্ক আর অন্যদিকে নতুন সদস্যের আগমনের অপেক্ষা—সব মিলিয়ে এক মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল তাঁদের। তবে শেষ পর্যন্ত সুস্থ সবলভাবে সন্তানের জন্ম হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সকলে। দুবাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই নবজাতকের জন্ম হয়।
কলকাতায় থাকা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশের মাটিতে সন্তান জন্ম দেওয়া এবং তার পরবর্তী সুরক্ষা নিয়ে তারা যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় ছিলেন। খবরের কাগজে বা টেলিভিশনের পর্দায় যখনই ধ্বংসের ছবি ভেসে আসছিল, তখনই তারা ভাবছিলেন অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে নতুন অতিথির আগমনে এখন উৎসবের মেজাজ প্রবাসী ওই পরিবারে।
পরিবারের এক প্রবীণ সদস্য কলকাতায় বসে ভিডিও কলের মাধ্যমে নতুন সদস্যকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, পৃথিবীটা যখন ঘৃণা আর হিংসায় ভরে উঠছে, তখন এই নতুন প্রাণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবন থেমে থাকে না। ধ্বংসের বিপরীতে সৃজনই হলো প্রকৃতির নিয়ম। দুবাইয়ে থাকা দম্পতিও তাদের খুশির খবর ভাগ করে নিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে।
যদিও চারপাশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের আবহে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি, তবুও এই জন্ম যেন এক পরম প্রাপ্তি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে শিশু এবং মা দুজনেই বর্তমানে সুস্থ আছেন। কলকাতার বাড়ি থেকে শুরু করে দুবাইয়ের হাসপাতাল পর্যন্ত এখন খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে এই জন্ম আসলে জীবনেরই জয়গান গাইছে। পরিবারটি আশা করছে যে, তাদের সন্তান এক শান্তিময় পৃথিবীতে বেড়ে উঠবে যেখানে যুদ্ধের পরিবর্তে থাকবে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন গোটা বিশ্ব শান্তির জন্য প্রার্থনা করছে। মৃত্যুর খবরের মাঝে এই জীবনের সংবাদ তাই শুধুমাত্র একটি পরিবারের আনন্দ নয়, বরং অনেক মানুষের কাছেই এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে নিয়ে এসেছে। প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও এই খবরটি একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।







