কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যসভায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রবীণ নেতা রাহুল সিনহাকেই উচ্চকক্ষে পাঠাতে চলেছে তারা। বঙ্গ রাজনীতিতে দলের কঠিন সময়ে যারা লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রাহুল সিনহা অন্যতম পরিচিত মুখ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিল যে, দলের পুরনো এবং বিশ্বস্ত সৈনিকদের পরিশ্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাহুল সিনহা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাম আমলের শেষ দিক থেকে শুরু করে রাজ্যে পদ্ম শিবিরের উত্থানের প্রতিটি ধাপে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন দলে নতুন মুখের ভিড় বেড়েছে, তখন রাহুল সিনহার মতো অভিজ্ঞ নেতাকে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠানোর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের অন্দরেও এই সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া বইছে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বরাবরই পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যসভার এই শূন্যপদ নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। কার নাম সামনে আসবে তা নিয়ে চলছিল চুলচেরা বিশ্লেষণ। শেষ পর্যন্ত দলের দীর্ঘদিনের লড়াকু মুখ রাহুল সিনহার নামেই সিলমোহর দিল জেপি নাড্ডা এবং অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী কমিটি। রাহুল সিনহার এই মনোনয়ন রাজ্যে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করছেন নিচুতলার কর্মীরা।
উল্লেখ্য, রাহুল সিনহা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একাধিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কখনও জয় এসেছে, কখনও আসেনি, কিন্তু জনভিত্তি তৈরিতে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা দমাতে পারেনি কোনও প্রতিকূলতা। এবার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তিনি দিল্লির দরবারে বাংলার অভাব-অভিযোগ এবং দলের অবস্থান তুলে ধরবেন। তাঁর মতো বাগ্মী এবং অভিজ্ঞ নেতা সংসদীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে আরও মজবুত করবে বলেই দলের বিশ্বাস।
দলের এই সিদ্ধান্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রাহুল সিনহা। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর ওপর যে ভরসা রেখেছেন, তার মর্যাদা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। বাংলার সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে তিনি রাজ্যসভায় সরব হবেন। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরণের সিদ্ধান্ত কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দলের একাংশের মতে, রাহুল সিনহার মতো বর্ষীয়ান নেতাকে সম্মান জানানো আসলে গোটা দলের সংহতিকেই আরও দৃঢ় করল।
বিজেপির এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়ে সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। পুরনো চাল ভাতে বাড়ে— এই প্রবাদকে সত্যি করেই রাহুল সিনহার সংসদীয় যাত্রা শুরু হতে চলেছে। আপাতত তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা। রাজ্য বিজেপির অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রাহুল সিনহাকে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।








