সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্মুখ সমরে মন্ত্রী ও রাজ্যের সিইও, তুঙ্গে তরজা

কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সেই ধারাই বজায় রেখে এবার এক্সে এক বেনজির দ্বৈরথ প্রত্যক্ষ করল রাজ্যবাসী। দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের এক মন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) কার্যালয়ের মধ্যে ভার্চুয়াল যুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। এই সংঘাতের মূলে রয়েছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ এবং তার প্রেক্ষিতে একে অপরের প্রতি পাল্টা আক্রমণের ধারা। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বেশ কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধী শিবিরের একাংশ। এরপরই মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বয়ান পোস্ট করা হয়। মন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরও চুপ করে বসে থাকেনি। তাঁরা পাল্টাও জবাব দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সব ধরনের কাজ আইন মেনেই করা হচ্ছে। এই বাদানুবাদ কেবল কয়েকটি পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা একটি ধারাবাহিক বিতর্কের রূপ নেয়। মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রাজ্য প্রশাসনের কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এর পাল্টায় সিইও-র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তাঁরা দায়বদ্ধ। কোনও প্রকারের ভিত্তিহীন অভিযোগ তাঁরা বরদাস্ত করবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিরোধীদের দাবি, সরকার নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতেই এভাবে সাংবিধানিক পদাধিকারীদের ওপর আক্রমণ শানাচ্ছে। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় যে কোনও অন্যায় বা পক্ষপাতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার অধিকার সবার আছে। দুর্নীতির অভিযোগের এই আবহে মন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং সিইও-র পাল্টা আইনি অবস্থান রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতির জটিলতাকেই তুলে ধরছে। উল্লেখ্য যে, এই প্রথম নয়, এর আগেও প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা নিয়ে বাদানুবাদ দেখা গিয়েছে। তবে এভাবে এক্সে সরাসরি বাকযুদ্ধ সম্ভবত সাম্প্রতিক অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেটিজেনরা নজর রাখছেন এই পরিস্থিতির ওপর। দিনের শেষে এই লড়াইয়ের আইনি বা প্রশাসনিক পরিণতি কী হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে বর্তমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি যে সহজে শান্ত হবে না, তা বলাই বাহুল্য। মন্ত্রীর অনুগামীরা যেখানে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করছেন, সেখানে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক মহলে এই ধরণের প্রকাশ্য বিরোধ নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। দুর্নীতির কাদা ছোঁড়াছুড়ি আর তার বিপরীতে প্রশাসনিক সাফাই—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন এই ডিজিটাল যুদ্ধেরই সাক্ষী থাকছে। আগামীর দিনগুলিতে এই সংঘাত কোন পথে পরিচালিত হয়, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক সমীকরণ। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং কোনওভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে নিরপেক্ষ সংস্থাকে ব্যবহার করা না হয়, সেই দাবিই উঠে আসছে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে। আপাতত, সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় এই মন্ত্রীর অভিযোগ আর সিইও-র জবাবের লড়াই রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।