নয়াদিল্লি: বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলির প্রভাব এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে যে, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা Foreign Direct Investment (FDI) এর ক্ষেত্রে যে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তা মূলত ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং ভারতে ব্যবসা করার প্রক্রিয়াকে (Ease of Doing Business) আরও সহজ করে তুলবে। এর আগে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা ভাগ করে নেওয়া দেশগুলির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া বিধিনিষেধ ছিল। ২০২০ সালের প্রেস নোট ৩ অনুযায়ী, ভারতের সীমান্তে অবস্থিত দেশগুলি থেকে আসা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হত। বর্তমানে সেই নিয়মের কাঠামোয় কিছুটা পরিবর্তন ও স্পষ্টতা আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন এই নির্দেশিকাগুলি বিনিয়োগকারীদের মনে থাকা অস্পষ্টতা দূর করবে। বিশেষ করে চিন থেকে আসা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত বরাবরই সতর্ক অবস্থান নিয়ে থাকে। লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার পর থেকেই বেজিংয়ের বিনিয়োগের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে দিল্লি। তবে বর্তমানে ভারতীয় বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং বিদেশি মুদ্রার প্রবাহ সচল রাখতে নিয়মাবলীতে এই স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন থেকে আরও সহজে বুঝতে পারবেন কোন কোন ক্ষেত্রে সরাসরি বিনিয়োগ করা সম্ভব এবং কোথায় সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। মোদী সরকারের লক্ষ্য হল ভারতকে বিশ্বের অন্যতম বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যপূরণে প্রতিবেশী দেশগুলির বিনিয়োগকেও একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, নিয়ম শিথিল করা হলেও জাতীয় সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল ব্যবসায়িক সমৃদ্ধি ঘটবে না, বরং ভারতের কৌশলগত অবস্থানও মজবুত হবে। প্রতিবেশীদের জন্য বিনিয়োগের পথ মসৃণ করে ভারত আদতে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চাইছে। চিনের অর্থনৈতিক প্রভাব রুখতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকলে বিদেশি সংস্থাগুলিও ভারতের বাজারে পুঁজি বিনিয়োগ করতে আরও বেশি উৎসাহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী দিনে এই নতুন নির্দেশিকার প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের। ভারতের এই পদক্ষেপ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করবে। বিশেষ করে স্টার্টআপ সেক্টর এবং উৎপাদন শিল্পে এই বিনিয়োগের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। কেন্দ্র বারবার জানাচ্ছে যে, নতুন গাইডলাইনগুলি শুধুমাত্র বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে না, বরং প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করবে।







