Bank Fraud: ২২৮ কোটি টাকার ব্যাংক জালিয়াতি মামলায় জেরা অনিল আম্বানি পুত্রকে

নয়াদিল্লি: দেশের কর্পোরেট জগতে ফের একবার উত্তাপ ছড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর একটি পদক্ষেপ। ২২৮ কোটি টাকার একটি ব্যাংক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় শিল্পপতি অনিল আম্বানির জ্যেষ্ঠ পুত্র জয় আনমোল আম্বানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সিবিআই সূত্রের খবর, এই আর্থিক জালিয়াতি এবং অনিয়মের ঘটনায় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবে অনিল আম্বানি ও তাঁর ছেলে জয় আনমোল আম্বানিকে জেরার মুখে পড়তে হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে যে, অভিযুক্ত সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেন এবং ঋণের টাকা তছরুপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইছে সিবিআই। বিশেষত, যে পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল, তা সঠিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনও সংস্থায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই মূলত তদন্ত চলছে। জয় আনমোল আম্বানি যেহেতু রিলায়েন্স গ্রুপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রয়েছেন, তাই এই ঋণের প্রক্রিয়া এবং তা পরিশোধ না করার নেপথ্যে তাঁর কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, গোয়েন্দারা তা বোঝার চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, ব্যাংক জালিয়াতির এই মামলাটি বেশ কয়েক বছর আগের। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হলেও তা যথাসময়ে ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এর আগে অনিল আম্বানিকেও একাধিকবার এই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সিবিআই উভয়েই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন আর্থিক দিক খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি সিবিআই-এর পক্ষ থেকে বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়াটি শেষ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, এই ২২৮ কোটি টাকার দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে। ঋণের নথিপত্রে কারচুপি করা হয়েছে কি না, এবং ব্যাংকের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই প্রতারণা চালানো হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু। যদিও আম্বানি পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তৎপরতা যে রিলায়েন্স এডিএ গ্রুপের (Reliance ADA Group) জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

বর্তমানে সিবিআই সংগৃহীত তথ্যগুলি খতিয়ে দেখছে। জয় আনমোল আম্বানির দেওয়া উত্তরের সঙ্গে আগের তথ্যের কোনও অসংগতি পাওয়া গেলে তাঁকে ফের তলব করা হতে পারে। আর্থিক অপরাধ দমন শাখার আধিকারিকরা মনে করছেন, এই মামলার নিষ্পত্তি করতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং বয়ান রেকর্ড করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের করের টাকা তথা ব্যাংকের আমানত উদ্ধারে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কতটা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার।