মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক উত্তেজনা থেকে ডলার কেন লাভবান হচ্ছে?

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক উত্তেজনা থেকে ডলার কেন লাভবান হচ্ছে?
    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক উত্তেজনা থেকে ডলার কেন লাভবান হচ্ছে?

    নয়াদিল্লি: বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে মার্কিন ডলারের প্রভাব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে যখনই কোনও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলার বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তরল সম্পদ বা ‘হাইলি লিকুইড অ্যাসেট’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    ডলারের এই উত্তরোত্তর সাফল্যের প্রধান কারণ হল এর সহজলভ্যতা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অধিকাংশ লেনদেন যেহেতু এই মুদ্রায় সম্পন্ন হয়, তাই এটি অত্যন্ত সহজে বিনিময়যোগ্য। যখন মধ্যপ্রাচ্যের মতো অঞ্চলে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন লগ্নিকারীরা সোনা বা অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি মার্কিন ডলার মজুত করতে পছন্দ করেন। কারণ, ডলারের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকে দ্রুত লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এটি সহজে অন্য যে কোনও মুদ্রায় রূপান্তর করা যায়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের এই শক্তিশালী অবস্থানের পিছনে অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর লিকুইডিটি। লিকুইডিটি বা তারল্য বলতে বোঝায় কোনও সম্পদকে কত দ্রুত এবং মূল্যের ক্ষতি না করে নগদ অর্থে রূপান্তর করা সম্ভব। মার্কিন ডলার এই ক্ষেত্রে বিশ্বের সমস্ত মুদ্রার মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থানে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে অপরিশোধিত তেলের বাজার থেকে শুরু করে শেয়ার বাজার পর্যন্ত যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তা সামাল দিতে বিশ্বব্যাপী ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি ডলারের ওপরেই ভরসা রাখছে।

    এই যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ার ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলির মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। ডলার যেহেতু সহজেই লভ্য এবং দ্রুত বিনিময়যোগ্য, তাই অস্থির সময়ে এর হাত ধরেই বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মূলধন রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের এই আধিপত্য এবং এর লিকুইডিটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত সহজলভ্যতা এবং নির্ভরযোগ্যতার মিশেলেই এই মুদ্রার জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।