এফসিআরএ বিল: কংগ্রেস-বামদের মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ রিজিজুর

কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সোমবার কংগ্রেস এবং বামেদের বিরুদ্ধে বিদেশী অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২০ (Foreign Contribution Regulation Act, 2020) নিয়ে একটি ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানোর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, এই বিল নিয়ে বিরোধীরা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

রিজিজু তাঁর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘কংগ্রেস এবং বামেরা এই বিল নিয়ে দেশে একটি মিথ্যা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারা বোঝাতে চাইছে যে এই বিলের মাধ্যমে সরকার বিদেশি অনুদান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে চাইছে। এটা একেবারেই সত্যি নয়।’

তিনি আরও জানান, এই সংশোধনী বিলটি মূলত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির (NGOs) বিদেশী অনুদান গ্রহণ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আনা হয়েছে। এর ফলে বিদেশী অনুদান কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আরও ভালোভাবে নজরদারি করা সম্ভব হবে। অনেক সংস্থা এই আইনের অপব্যবহার করছে এবং অবৈধ কাজকর্মের জন্য বিদেশী অর্থ ব্যবহার করছে, যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। এই বিল সেইসব অপব্যবহার রোধ করতে সাহায্য করবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিদেশী অনুদান সম্পূর্ণ বন্ধ করছি না। বরং, আমরা নিশ্চিত করতে চাইছি যে এই অর্থ যেন দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, দেশের আইন মেনে এবং স্বচ্ছভাবে ব্যবহার করা হয়। এই সংশোধনী কেবল নির্দিষ্ট কিছু ধারাকে স্পষ্ট করছে এবং কিছু নতুন নিয়ম যোগ করছে যাতে প্রক্রিয়ার কোনও অপব্যবহার না হয়।’

রিজিজু নির্দিষ্ট করে বলেন যে, এই বিলের মাধ্যমে সরকার কোনও রাজনৈতিক দলের বিদেশী অনুদান গ্রহণের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে না, তবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, ‘যারা দেশের আইন মেনে চলবে, তাদের কোনও সমস্যা হবে না। যারা বিদেশী অনুদান নিয়ে অবৈধ কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস এবং বামেরা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই বিল নিয়ে জনমনে ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে। তারা চাইছে যে, কিছু বিশেষ ধরণের সংস্থা যাদের কার্যকলাপ দেশের অখণ্ডতার পক্ষে ক্ষতিকর, তারাও যেন নির্বিচারে বিদেশী অনুদান পেতে পারে। কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপস করবে না।

প্রসঙ্গত, এই FCRA সংশোধনী বিল ২০২০ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) মতো বিতর্কিত একটি বিষয়। এর আগে, ২০১৯ সালে, FCRA আইনের অধীনে বিদেশী অনুদান গ্রহণের নিয়ম আরও কড়া করা হয়েছিল। নতুন সংশোধনী বিলে, ‘সরকারি কর্মচারী’ শব্দের সংজ্ঞাও প্রসারিত করা হয়েছে, যা অনেক NGO-র জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই নতুন সংজ্ঞা তাদের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

রিজিজু বিরোধীদের এই ‘মিথ্যা প্রচার’ বন্ধ করার এবং বিলটি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিরোধীরা দেশের স্বার্থে এই বিলটিকে সমর্থন করবে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবে। এই বিল দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সংশোধনী বিলের মূল উদ্দেশ্য হল জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বিদেশী শক্তির দ্বারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা। বিলটি সংসদে পাশ হওয়ার পর, এটি দেশের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির কার্যকলাপে আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং নিয়মানুবর্তিতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, বিরোধীদের একাংশ মনে করছে যে, এই বিলের ফলে অনেক জনকল্যাণমূলক কাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কিরেণ রিজিজু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শেষ হবে এবং দেশগঠনের কাজে সকলে একযোগে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিদেশী অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলির উপর নজরদারি বাড়াবো, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা সব বন্ধ করে দিচ্ছি। আমরা শুধু নিশ্চিত করতে চাইছি যে, অনুদান যেন সঠিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়।’

এই বিল নিয়ে পার্লামেন্টেও জোর বিতর্ক চলছে। বিরোধীরা সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং এই বিলের ফলে দেশের উন্নয়নমূলক কাজে গতি কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে। অন্যদিকে, সরকার তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং বিলটিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করছে।

রিজিজু আরও বলেন, ‘যারা দেশের আইন মানে, তাদের কোনও ভয় নেই। যারা দেশের টাকা নয়ছয় করছে বা অবৈধ কাজে ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিলের মাধ্যমে আমরা সেই কাজটিই আরও সুসংহতভাবে করতে চাইছি।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের নাগরিকেরা এই ‘মিথ্যা প্রচার’ বুঝতে পারবে এবং সরকারের নীতিগুলির প্রতি আস্থা রাখবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় দেশের মানুষের সঙ্গে আছি এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য।’

বিদেশী অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২০ নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিলটির যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলেও, বিরোধীরা তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার বিষয়।