ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বা ইসরো-তে কর্মীদের ইস্তফা দেওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে চর্চা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, সরকারি চাকরিতে কর্মী আসা এবং যাওয়ার বিষয়টি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অযথা জল্পনা বা উদ্বেগ তৈরির কোনো কারণ নেই। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর কাজের পরিধি এবং সেখানকার বিজ্ঞানী ও কর্মীদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে অনেক সময় অনেক কর্মীই ব্যক্তিগত বা পেশাগত কারণে অন্য পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন, যা প্রশাসনিকভাবে কোনো বড় সংকট নয় বলেই তিনি মনে করেন।
কুদানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা কেকেএনপিপি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়েও এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সরব হতে দেখা যায়। পরমাণু শক্তি প্রকল্পের নিরাপত্তা এবং এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যে বিতর্ক রয়েছে, তার যথাযথ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন মন্ত্রী। জিতেন্দ্র সিং জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি দেশের শক্তির চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে এবং এগুলির সুরক্ষার বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে। কুদানকুলাম প্রজেক্টের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার প্রতিটি দিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে নিয়মিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনোভাবেই মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইসরোর কর্মীরা কেন হঠাৎ পদত্যাগ করছেন এবং এই বিষয়টি কি সংস্থার কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে—এই ধরনের একাধিক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সরকারি বা আধা-সরকারি যে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই বা ইস্তফা কোনো নতুন বিষয় নয়। দক্ষ পেশাদারদের কাজের সুযোগ সর্বত্র থাকে। অনেক সময় ভালো সুযোগের সন্ধানে বা ব্যক্তিগত কারণে কর্মীরা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখা উচিত। ইসরোর কাজের গতি বা সাফল্যের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তা বিশ্বমানের এবং সেই কাঠামোর ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
উল্লেখ্য, কুদানকুলাম প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরেই বিভিন্ন কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কা এবং পারমাণবিক শক্তির ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হয়েছে। সরকার সেই উদ্বেগের জায়গাগুলি বুঝে প্রকল্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র এবং তথ্য জনসমক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো শর্টকাট অবলম্বন করা হয় না। প্রতিটি প্রকল্পের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হয় যাতে জনগণের আস্থা বজায় থাকে। পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে এক বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আরও জানান, ইসরোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী জনবল পরিকল্পনা রয়েছে এবং যে কোনো পদের শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করা হবে। বর্তমানে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ভারত যে সাফল্য অর্জন করেছে, তাতে ইসরোর কর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের মানসিক অবস্থার ওপর এবং সংস্থার সামগ্রিক কর্মপদ্ধতির ওপর সরকার তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। তবে যারা সংস্থা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাদের নিয়ে কোনোভাবেই কোনো আতঙ্ক ছড়ানো উচিত নয়। সরকারি দপ্তর বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় কর্মী আসা এবং যাওয়ার এই ‘রvolving door’ নীতি বা চলমান প্রক্রিয়াটি চিরকালই বজায় থাকে।
পরিশেষে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের অধীনস্থ সমস্ত সংস্থাগুলি তাদের লক্ষ্যপথে অবিচল রয়েছে। ইসরো হোক বা পারমাণবিক শক্তি দপ্তর, প্রতিটি সংস্থাই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। কোনো বিশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক গাফিলতির অবকাশ নেই বলে তিনি দাবি করেছেন। কেকেএনপিপি এবং ইসরো সংক্রান্ত অন্যান্য যে সমস্ত তথ্য বা বিশদ বিবরণের কথা সংবাদমাধ্যম জানতে চেয়েছে, সেগুলির বিষয়ে পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। আপাতত যেটুকু তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে কোনো উদ্বেগের কারণ নেই এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বদ্ধপরিকর।







