যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করতে এবং জাহাজ থেকে টোল আদায়ের জন্য তেহরানের সঙ্গে একটি ‘যৌথ উদ্যোগ’-এর পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্প এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, শুধু হরমুজ প্রণালীতে অবস্থান করেই বিপুল অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। বুধবার তিনি ইরানের এই টোল আদায়কে একটি ‘চমৎকার বিষয়’ বলে অভিহিত করেন।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সঙ্গে কাজ করতে পারে। জাহাজের ওপর আরোপিত টোলকে একটি “চমৎকার বিষয়” হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এটিকে একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে করার কথা ভাবছি। এই পথটি সুরক্ষিত করার এটি একটি উপায়।”
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অঞ্চলে “শুধু ঘোরাঘুরি করেই” প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যায়, যা ইরানকে পুনর্গঠনে সাহায্য করবে।
কিছুদিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের টোল আদায়ের ধারণাকে অবৈধ, বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন ট্রাম্প নিজেই সেই “অবৈধ” কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে ইচ্ছুক। ট্রাম্পের যুক্তি খুবই সহজ: “আমরাই বিজয়ী, তাই অধিকারটাও আমাদেরই।”
তিনি হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যেহেতু ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে, এখন আমেরিকার উচিত সেখান থেকে মাশুল আদায় করা।
তেহরান টোল বুথ’ বলতে কী বোঝায়?
ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। পরে, চীন, পাকিস্তান এবং গ্রিসের মতো দেশগুলোর জাহাজকে মোটা অঙ্কের ফি-এর বিনিময়ে এটি দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেয়। নৌপরিবহণ জগতে এটি “তেহরান টোল বুথ” নামে পরিচিতি লাভ করেছে, যেখানে প্রতিটি জাহাজের জন্য ১০ থেকে ২০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত চার্জ করা হচ্ছে। বিশ্বের ২০% তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে যায়, যার ওপর এখন ট্রাম্পের নজর।
যুদ্ধবিরতির পরেও হামলা
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, ইসরায়েলও লেবাননে ঘাঁটি গেড়েছে।








