কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের সভার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। তবে এই অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় শর্ত জুড়েছে আদালত। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে মূলত যে স্থানটি সমাবেশের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল, তার পরিবর্তে অন্য একটি জায়গা ব্যবহারের সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য বিচারপতি। রাজনৈতিক মহলে আদালতের এই আকস্মিক ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে যে, আদালতের নির্দেশ মেনেই তারা তাদের এই বার্ষিক সমাবেশের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং আইন অমান্য করার কোনো অবকাশ তারা রাখবে না।

প্রতি বছর একুশে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে শহিদ দিবস পালন করে থাকে। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করতে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যের শাসক দল এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে আসছে। এবারও সেই দীর্ঘদিনের প্রথা মেনেই কলকাতার বুকে এক বিশাল জনসভার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এবারের সভার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে প্রশাসন বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আদালত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, সভার স্থান পরিবর্তনের ফলে যেন কোনোভাবেই জনজীবন বিপর্যস্ত না হয় এবং সাধারণ মানুষ যাতে কোনো প্রকার ভোগান্তির শিকার না হন, সেই দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনকে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট জনবহুল এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণের জটিলতা এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই সভার স্থান পরিবর্তনের এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আদালতের প্রতিটি নির্দেশ তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। সমাবেশকে সফল করার জন্য দলের পক্ষ থেকে পুরো রাজ্যজুড়ে জোরালো প্রচার অভিযান শুরু হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় সভার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও প্রশাসনিক স্তরে গ্রহণ করা হয়েছে।
বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে অবশ্য এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করা হয়েছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক সভার জন্য বারবার স্থান বা সময় পরিবর্তনের জেরে শহরের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে ও যাতায়াতে চূড়ান্ত অসুবিধা সৃষ্টি হয়। যদিও শাসক দলের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, শহিদ দিবস তাদের কাছে কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি তাদের আবেগ ও ঐতিহ্যের একটি দিন। তাই সমস্ত সাংবিধানিক নিয়ম মেনে এবং আদালতের নির্দেশকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়েই তারা এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন।
আদালতের এই রায়ের পর রাজ্য সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নতুন সভার স্থানের প্রস্তুতি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা অতি দ্রুত নতুন নির্ধারিত স্থানটিতে সমস্ত পরিকাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করে। সভার মূল মঞ্চ তৈরির কাজ থেকে শুরু করে সাউন্ড সিস্টেম এবং জনসমাগমের জন্য উপযুক্ত শেড বা বসার ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ এখন থেকেই শুরু করতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, একুশে জুলাইকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ শহরের আবহে চড়তে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য যে, এই সমাবেশের বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো বাড়তি তথ্য এই মুহূর্তে সরকারিভাবে সামনে আসেনি। সভার বক্তা তালিকায় কারা থাকবেন বা তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী রাজনৈতিক বার্তা দেবেন, তা নিয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। তবে আদালতের নির্দেশ মেনে এই কর্মসূচি কতটা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন সমগ্র রাজ্য। সভার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কলকাতা পুলিশ কোনো প্রকার ছাড় দিতে নারাজ, তা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের তরফ থেকেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য আগেভাগেই বিস্তারিত রুট ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সমাবেশের দিনেও শহরের যান চলাচল সচল রাখা সম্ভব হয়। প্রতিটি স্তরের প্রশাসনের তৎপরতায় এবং আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়নে এখন ২১ জুলাইয়ের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে শাসক শিবির। শহরবাসীও নজর রাখছেন, বড় এই রাজনৈতিক কর্মসূচি কীভাবে শান্তভাবে সম্পন্ন হয়।








