জ্ঞানভিত্তিক ভারত গড়তে উদ্ভাবনের বিকল্প নেই: আইসার-এ সুকান্ত মজুমদার

কলকাতার অদূরে অবস্থিত নদীয়ার মোহনপুরে অবস্থিত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ বা আইসার (IISER) কলকাতা ক্যাম্পাসে বর্তমানে এক বিশেষ গ্রীষ্মকালীন শিক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আধুনিক ভারতের সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবাদী মানসিকতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারার প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, একটি শক্তিশালী, উন্নত এবং জ্ঞানভিত্তিক ভারত গড়ে তোলার প্রধান চাবিকাঠিই হলো নিরন্তর উদ্ভাবন এবং গবেষণাধর্মী শিক্ষা।

এই বিশেষ শিক্ষা শিবিরটিতে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ৭০ জন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি অদম্য আগ্রহ বৃদ্ধি করা এবং প্রচলিত পাঠ্যক্রমের বিষয়ভিত্তিক গণ্ডি পেরিয়ে আন্তঃবিভাগীয় শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমানের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করাই যথেষ্ট নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গবেষণার মানসিকতা এবং নতুন কিছু তৈরি করার অদম্য জেদ থাকা প্রয়োজন। এই শিবিরটি আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত মোহনপুর ক্যাম্পাসের সুসজ্জিত প্রাঙ্গণে চলবে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে গবেষণার বিভিন্ন জটিল ও সূক্ষ্ম দিক সম্পর্কে সরাসরি অবগত হওয়ার অনন্য সুযোগ পাবে। বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি উদ্ভাবন এবং পারস্পরিক সহযোগিতামূলক শিক্ষাচর্চাকে কীভাবে আগামী দিনে আরও বেশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই বিষয়েও শিক্ষার্থীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। দেশের প্রতিটি প্রান্তের ছাত্রছাত্রীদের, বিশেষ করে যারা প্রান্তিক অঞ্চলে রয়েছে, তাদের বিজ্ঞান গবেষণার মূল স্রোতে নিয়ে আসাই এই বিশাল আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্রছাত্রীরা যাতে বিশ্বমানের গবেষণার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নিজেদের সেই স্তরে উন্নীত করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আইসার কলকাতা কর্তৃপক্ষের এই প্রশংসনীয় প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সুকান্ত মজুমদার আরও জোর দিয়ে বলেন, ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যেভাবে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে, তার মূল কারিগর হবে আজকের এই তরুণ প্রজন্মই। এই গ্রীষ্মকালীন শিবিরটি কেবল একটি সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান বা কর্মশালা নয়, বরং এটি একটি সুসংহত মঞ্চ বা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে পড়ুয়ারা তাদের সুপ্ত মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হবে। আধুনিক বিজ্ঞানের নানা জটিল বিষয়গুলোকে সহজতর করে তোলা এবং দৈনন্দিন জীবনের জটিল সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী শক্তির সঠিক প্রয়োগ শেখানোই এই শিবিরের মূল উপজীব্য।

আগামী কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা আইসার-এর অভিজ্ঞ অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের সরাসরি সান্নিধ্যে কাজ করার এবং শেখার সুযোগ পাবেন। এই কর্মশালার মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কৌতুহল জাগিয়ে তোলাই আয়োজকদের মূল লক্ষ্য। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক গবেষণাগারে হাতে-কলমে পরীক্ষার সুবিধাও রাখা হয়েছে, যা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে।

যদিও এই শিবিরের সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচি বা অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য আপাতত সরকারিভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্য কোনো বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন কি না বা এই প্রকল্পের সামগ্রিক আর্থিক রূপরেখা সম্পর্কে বিশদ কোনো তথ্য আমাদের কাছে এই মুহূর্তে উপলব্ধ নেই। তবে আগামী ২২ জুলাই এক বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মেধা অন্বেষণ পর্বের ইতি ঘটবে বলে আইসার কলকাতা কর্তৃপক্ষ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। এই ধরণের উদ্যোগ ভবিষ্যতে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞান চর্চার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।