পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) বিকাশে এক বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় রাজ্যের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা রাজ্যের শিল্পমহলে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন ছোট ব্যবসায়ী এবং শিল্পোদ্যোক্তারা মূলধনের অভাব নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন। এই ঋণ মঞ্জুরির ফলে সেই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কিছুটা সুরাহা হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ছোট ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের একটি বড় অংশ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট কলকারখানা, কুটির শিল্প এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা পাবেন। বিশেষ করে যে সমস্ত উদ্যোগ নতুনভাবে কাজ শুরু করতে চাইছে বা বর্তমান ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য পুঁজির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই অর্থ বিশেষ সহায়ক হবে। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে এই ঋণ সরাসরি উদ্যোক্তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলার শিল্প পরিকাঠামোয় ছোট উদ্যোগগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন জানিয়েছিলেন। অবশেষে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত মেলায় সেই ব্যবসায়ীদের পথ প্রশস্ত হলো। তবে ঠিক কতজন ব্যবসায়ী এই সুবিধা পাচ্ছেন এবং কোন কোন নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য সরকারি দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা বা ব্যাঙ্কিং মহলের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে। বর্তমান প্রতিবেদনে সেই বিষয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান বা তালিকা নেই।
উল্লেখ্য, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জামানত বা কোল্যাটারালের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেওয়া। অনেক ক্ষেত্রেই ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় তারা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেতে অসুবিধার সম্মুখীন হন। কেন্দ্রের গ্যারান্টি থাকায় ব্যাঙ্কগুলিও সহজে ঋণ প্রদানে আগ্রহী হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যের এমএসএমই খাতের চাকা আরও দ্রুত গতিতে ঘুরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে টানাপড়েন থাকলেও, সরাসরি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই আর্থিক সহায়তা রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বাজার ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে, এই অর্থ যথাযথভাবে বন্টিত হলে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্ষুদ্র শিল্পের হাত ধরেই রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ এবং দ্রুত হবে, তার দিকেই এখন নজর থাকবে সাধারণ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাঙ্কগুলিকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে ঋণ বিতরণের কাজ শুরু হবে। যারা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে আবেদন করেছেন, তাদের ব্যাঙ্ক শাখার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে কিছুটা হলেও সুরাহা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। সব মিলিয়ে ১১ হাজার কোটি টাকার এই প্যাকেজ বাংলার ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।








