কেনিয়ায় সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধানসহ ৭ জন নিহত

বুধবার কেনিয়ার সাম্বুরু কাউন্টিতে একটি বড় সাফারি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। কেনিয়ার কর্মকর্তারা এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, এই দুর্ঘটনায় ইকুয়েডরের জাতীয় গোয়েন্দা কেন্দ্রের প্রধান মিশেল সেনসি-কন্তুগি এবং তার স্ত্রীও মারা গেছেন।

কেনিয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মতে, সকাল ৯:১৩ মিনিটের দিকে সাম্বুরু কাউন্টির মাউন্ট ওলোলোকওয়ের কাছে একটি ইউরোকপ্টার EC130 B4 বিধ্বস্ত হয়েছে। হেলিকপ্টারটি লোইসাবা কনজারভেন্সি থেকে আওয়াসো নাইরো এলাকার দিকে যাচ্ছিল। হেলিকপ্টারটিতে ছয়জন যাত্রী এবং একজন পাইলট ছিলেন। সাম্বুরু কাউন্টি পুলিশ কমান্ডার ডেভিড নকোরোই বলেছেন, সাতজনই মারা গেছেন। দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।

কেনিয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন রয়েছে। হেলিকপ্টারটি লেডি লরি হেলিকপ্টারস দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল এবং এটি একটি চার্টার ফ্লাইট ছিল। লেডি লরি হেলিকপ্টারসও দুর্ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির মতে, দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের পরেই কারণটি নির্ধারণ করা হবে।

পাঁচজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। মার্কিন দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দূতাবাস পরিবারগুলোকে কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং বলেছে যে, এই কঠিন সময়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধানও মারা গেছেন

ইকুয়েডরও তাদের গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। মিশেল সেনসি-কন্তুগি দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি তার স্ত্রী স্টেফানি হুলিহানের সঙ্গে কেনিয়া যাচ্ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় তার স্ত্রীও মারা যান। ইকুয়েডরের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, সেনসি-কন্তুগি রাষ্ট্রপতি দানিয়েল নোবোয়ার একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বন্ধু ছিলেন। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে।

উদ্ধার কাজে অসুবিধা

দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন ছিল এবং সেখানে আগুনও জ্বলছিল, যার ফলে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইসিয়োলো থেকে একটি অতিরিক্ত দল পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য ট্রপিক এয়ার কেনিয়া দুটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। কেনিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিম কেনিয়ায় একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছিলেন।