নির্বাচন পরিচালনায় কারচুপি, পুলিশকে ব্যবহার করছে বিজেপি: মমতা বন্দ্যোপ

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের একবার শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তিনি রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশি ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দল বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘হাইজ্যাক’ বা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, ভোট লুঠ করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, রাজ্যের পুলিশ বাহিনী এখন কার্যত বিজেপির নিয়ন্ত্রণাধীন এবং তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরিবর্তে শাসকদলের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে তিনি সরব হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিজেপির এই অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি মানুষের দরবারে যাবেন। আগামী দিনে তিনি পুরো রাজ্যজুড়ে সফর করবেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ জনসাধারণের সামনে তুলে ধরবেন। জনমত গঠন করে বিজেপির এই কৌশলের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর ডাক দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনী অভিযোগের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ নিয়েও নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া কোনোভাবেই হকারদের উচ্ছেদ করা সমর্থনযোগ্য নয়। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হকারদের সরানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, যদি সরকার হকারদের জন্য কোনো উপযুক্ত বিকল্প জায়গা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে না পারে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি হকারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের রুটিরুজি নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিরোধী দল হিসেবে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের একটি বড় কৌশল। একদিকে নির্বাচন পরিচালনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা, অন্যদিকে হকারদের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের জনভিত্তি পোক্ত করার বার্তা দেওয়া— সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতির তাপমাত্রা এই মুহূর্তে তুঙ্গে। যদিও বিজেপির তরফ থেকে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরব রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফরের কর্মসূচি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় গিয়ে তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন এবং শাসক দলের ‘গণতন্ত্র বিরোধী’ মানসিকতার পর্দা ফাঁস করবেন। এই কর্মসূচির রূপরেখা এবং সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে তৃণমূল সুপ্রিমোর এই নতুন রণকৌশল যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলল, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও এই বার্তা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কর্মীরা দলের নেত্রীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে জেলা স্তরে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে রাজ্যের রাজনীতি।