পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের দুঃস্থ এবং অসহায় মানুষদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার বিধবা, প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করার ঘোষণা করেছে। এখন থেকে এই সকল উপভোক্তারা মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রান্তিক মানুষজনের মুখে হাসি ফোটাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বর্তমান প্রশাসনিক নীতি অনুযায়ী, রাজ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অসহায় প্রবীণ নাগরিক, যাঁদের কোনো আয়ের উৎস নেই এবং বিধবা মহিলারা, যাঁদের পরিবার চালানোর ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ মেটাতে এই বর্ধিত ভাতা বড় ভূমিকা নেবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে এই ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা চলছিল। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও সামাজিক সুরক্ষার এই বিষয়টিতে বারবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়ায় রাজ্যের একটি বড় অংশের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা আগে এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক নির্ধারিত ভাতা পেতেন, তাঁরা এবার নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরাসরি ১৫০০ টাকা করে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য সরকার বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছাড়াই যাতে উপভোক্তারা সরাসরি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যাঁরা এতদিন এই ভাতার আওতাভুক্ত ছিলেন না কিন্তু বর্তমানে যোগ্য, তাঁদের নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করা হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দুস্থ মানুষজনের কাছে এই ভাতার খবর পৌঁছে দিতে পঞ্চায়েত দপ্তরকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় যে সমস্ত সামাজিক প্রকল্প চালু ছিল, তার মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার এবং পরিমার্জন করছে বর্তমান সরকার। বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার স্পষ্ট করেছে যে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে সাধারণ মানুষের পকেটে সরাসরি সরকারি অর্থ পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে অর্থ দপ্তরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই বর্ধিত ভাতার বিষয়টি কার্যকর হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে উপভোক্তাদের তথ্যের যাচাইকরণ বা ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজও শুরু হয়ে গেছে। যেসব উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করা নেই, তাঁদের দ্রুত তা সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের তরফে প্রচার চালানো হচ্ছে। এর ফলে ভাতা বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো জালিয়াতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না বলেই সরকারি কর্মকর্তারা আশাবাদী।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সমাজসেবী ও বিভিন্ন প্রান্তিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এই বাজারে ১৫০০ টাকা মাসিক সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য একটি বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। প্রবীণ নাগরিকদের চিকিৎসার খরচ বা বিধবা মহিলাদের সংসার চালানোর ক্ষেত্রে এই আর্থিক অনুদান একটি বড় ভরসার জায়গা তৈরি করবে।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগকে রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা পরিকাঠামোয় এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শাসক দল বিজেপি চাইছে আসন্ন দিনগুলোতে জনমুখী প্রকল্পগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তকে দেরিতে হলেও একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে। সব মিলিয়ে, রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষার মানচিত্রে এই ঘোষণা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।








