“এভাবেই কি নির্বাচনে জিতবেন?” টিএমসি-র প্রতীক স্থগিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিশানা করলেন কেজরিওয়াল

পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২০২৬ সালের নন্দীগ্রাম ও রাজনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগে নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নাম এবং তাদের পরিচিত ‘ফুল-ঘাস’ নির্বাচনী প্রতীক স্থগিত করে দিয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরাসরি সমালোচনা করেছেন।

আমরা কি এভাবে নির্বাচনে জিতব? – কেজরিওয়ালের খোঁচা

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্তের পর, অরবিন্দ কেজরিওয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন, “জন্মদিনে জাতির জন্য মোদীর উপহার। এভাবেই কি তিনি নির্বাচনে জিতবেন?”

কেজরিওয়াল স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন যে, উপনির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলোকে দুর্বল করার জন্যই এসব করা হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য বাংলা থেকে দিল্লি পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ

তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে আছে। দলটি এখন দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে: একটির নেতৃত্বে রয়েছেন অরূপ রায়, এবং অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উভয় গোষ্ঠীই দলের নাম এবং ঐতিহ্যবাহী নির্বাচনী প্রতীকের উপর দাবি জানাচ্ছিল। ফলস্বরূপ, ভারতের নির্বাচন কমিশন এই কঠোর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেছে। কমিশন জানিয়েছে যে, কোনো গোষ্ঠীই “সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস” নামটি ব্যবহার করতে পারবে না। দলের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক, “ফুল ও ঘাস”, সম্পূর্ণরূপে অপরিবর্তিত থাকবে।

এছাড়াও, কমিশন উভয় পক্ষকে আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে তাদের তিনটি নতুন পছন্দের নাম ও মুক্ত প্রতীকের একটি তালিকা জমা দিতে বলেছে। প্রতীক বিরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত, উভয় পক্ষকে আলাদা অন্তর্বর্তীকালীন নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

নন্দীগ্রাম ও রাজনগর উপনির্বাচনের

পশ্চিমবঙ্গের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসন—নন্দীগ্রাম ও রাজনগরের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই পুরো রাজনৈতিক লড়াইটি শুরু হয়েছে। দুটি আসনেই ভোটগ্রহণ হবে ৬ই অক্টোবর এবং ভোট গণনা হবে ৯ই অক্টোবর। নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ১১ই অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পর নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হয়, যিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখেছেন। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবিরের পদত্যাগের পর রাজনগর আসনটি শূন্য হয়। এখন দেখার বিষয়, মমতা ব্যানার্জী এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী তাদের পুরোনো নাম ও প্রতীক ছাড়া জনগণের মাঝে কীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।