সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় বিধবাদের লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা মোদীর

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য পুনরুজ্জীবিত করার কাজে যে অসামান্য ও অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন স্থানীয় দুঃস্থ বিধবা মহিলারা, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের পরিবেশগত সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই নারীদের ভূমিকা এখন কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, বরং গোটা দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক বার্তায় আবেগঘন ভাষায় জানিয়েছেন যে, চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেও যেভাবে এই মহিলারা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করছেন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অরণ্যকে নতুন জীবন দিচ্ছেন, তা সত্যিই সমগ্র দেশবাসীর কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

উল্লেখ্য যে, সুন্দরবনের দুর্গম গ্রামগুলিতে জীবিকার সন্ধানে বনে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হয়েছেন বহু মৎস্যজীবী। এই মর্মান্তিক ঘটনার ফলে বহু মহিলা অকালে তাঁদের স্বামীদের হারিয়েছেন। এরপর জীবনের চরম অনিশ্চয়তা, অভাব ও দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই তাঁরা বেছে নিয়েছেন পরিবেশ রক্ষার এই অত্যন্ত কঠিন ও সাহসী পথ। বন দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মহিলারা গত কয়েক বছরে কয়েক লক্ষ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করেছেন। এই চারাগাছগুলো আজ একেকটি বিশালাকার বৃক্ষে পরিণত হয়ে সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকাকে বিধ্বংসী জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে ঢালের মতো রক্ষা করছে। ম্যানগ্রোভের জঙ্গল নির্বিচারে ধ্বংস হওয়ার ফলে সুন্দরবনের যে অমূল্য জীববৈচিত্র্য একসময় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, তা পূরণ করার ক্ষেত্রে এই সাহসী নারীদের অদম্য লড়াই আজ এক নতুন আশার দিশা দেখাচ্ছে।

এই বিষয়ে বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনের বিধবা মা-বোনেদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রশাসন সর্বতোভাবে সহায়তা করবে। রাজ্যের বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করে তোলা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, পূর্ববর্তী আমলের তুলনায় বর্তমান সরকারের এই জনমুখী উদ্যোগ সুন্দরবনের সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশংসাবাক্য স্থানীয় মহিলাদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাঁরা এখন নতুন উদ্যমে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপে সুন্দরবনের মাটির লবণাক্ততা প্রতি বছর উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমন কঠিন সময়ে এই ম্যানগ্রোভ গাছগুলো যেমন মাটির ক্ষয় রোধ করছে, তেমনই ঝড়ের গতিবেগ কমিয়ে গ্রামগুলোকে সুরক্ষিত রাখছে। বিধবা নারীদের এই দলগুলো এখন স্থানীয়ভাবে নারী-ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁদের এই মহৎ কাজে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন নামী-দামি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও এগিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এভাবে স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যদি ম্যানগ্রোভ অরণ্য বৃদ্ধির এই কর্মকাণ্ড নিয়মিত চালানো যায়, তবে ভবিষ্যতে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র অনেক বেশি সুরক্ষিত ও প্রাণবন্ত থাকবে।

এই অসামান্য কর্মকাণ্ড শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় স্তরেও পরিবেশ রক্ষায় একটি বড় ‘মডেল’ হিসেবে এটি উঠে আসছে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকও এই সংগ্রামী বিধবাদের কাজের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছে এবং তাঁদের আরও বেশি করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের এই মায়েরা কেবল নিজেদের জীবনযুদ্ধের কঠিন লড়াই করছেন না, বরং আক্ষরিক অর্থেই আগামীর প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার মহান দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

পরিবেশবিদদের মতে, এই নারীদের সংগ্রামের কাহিনি এখন বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি হবে। সুন্দরবনের মাটি ও মানুষকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ে তাঁরা যে অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। বর্তমান সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে এই সবুজ বিপ্লবকে আরও বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। সরকারি সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে যে, আগামী দিনে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানো হবে এবং এতে আরও বেশি সংখ্যক স্থানীয় মহিলাকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংগ্রামী নারীদের হাতের ছোঁয়ায় সুন্দরবনের ধ্বংসপ্রায় অরণ্য আবারও সবুজ শ্যামল হয়ে উঠবে, এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা। তাঁদের এই নীরব বিপ্লব আগামী প্রজন্মের কাছে এক অবিস্মরণীয় শিক্ষা হিসেবে থেকে যাবে।