উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করল ডব্লিউবিএসএসসি

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (ডব্লিউবিএসএসসি) উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন এবং সংশোধিত ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই তালিকা প্রকাশ হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের কঠোর নজরদারিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসন এবং কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংশোধিত তালিকাটি বেশ কিছু আইনি জটিলতা ও আগের ত্রুটিসমূহ খতিয়ে দেখার পরেই প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, যার প্রেক্ষিতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্যের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশে কমিশন দফায় দফায় এই তালিকা যাচাই করেছে। কোনো প্রার্থী যেন বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে কমিশনের অন্দরের খবর।

সংশোধিত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের ইন্টারভিউ কবে এবং কোথায় নেওয়া হবে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত সময়সূচী কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী প্রার্থীদের দ্রুত ওয়েবসাইটটি নিয়মিত চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, প্রার্থীদের ইন্টারভিউ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং বয়ান প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিগত দিনে নিয়োগ নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন উঠেছিল, তার প্রেক্ষিতে এবার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

বর্তমান সরকার, অর্থাৎ বিজেপির নেতৃত্বে চলা এই প্রশাসন নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতাকে প্রধান শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিং করা হবে যাতে পরবর্তীকালে কোনো প্রকার কারচুপির অভিযোগ না ওঠে। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যদিও এই প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তবে রাজ্য সরকারের দাবি, তারা মেধার ভিত্তিতেই যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করতে বদ্ধপরিকর।

উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক হওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করে থাকা হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর কাছে এই সংশোধিত তালিকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যে সমস্ত প্রার্থীর নাম আগের তালিকায় কোনো কারণে বাদ পড়েছিল বা অসংগতি ছিল, তাদের জন্য এই সুযোগটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ইন্টারভিউয়ের সঠিক তারিখ এবং সময়সূচী সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্য এই প্রতিবেদনে আরও বিস্তারিতভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ কমিশন থেকে সেই তথ্য সব জায়গায় একই সময়ে আপডেট করা হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থীদের বিভ্রান্তি এড়াতে কমিশনের নিজস্ব পোর্টালে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই নতুন মোড় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে থাকা কর্মসংস্থানের সুযোগকে কিছুটা হলেও সচল করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক কঠোরতা এবং শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ নজরদারি এই পুরো প্রক্রিয়ায় কতটা স্বচ্ছতা আনতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে, রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

পরিশেষে, কমিশন জানিয়েছে যে কোনো অবস্থাতেই দালাল চক্র বা বাইরের কোনো প্রলোভনে যেন প্রার্থীরা পা না দেন। যদি কেউ কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পায়, তবে সরাসরি পুলিশ বা কমিশনের কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক স্তরের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক ঘাটতি অনেকটাই মিটবে বলে আশা প্রকাশ করছে শিক্ষা দপ্তর। প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কমিশন পরবর্তীতে জানিয়ে দেবে।