কলকাতার বুকে ফের শ্লীলতাহানির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে দুই মহিলার সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠল। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় অভিযুক্ত পলাশ রায় নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় হোটেলের পরিবেশ ও অন্যান্য আবাসিকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অভিযুক্ত পলাশ রায় হোটেলের লবিতে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় সেখানে থাকা দুই মহিলার সঙ্গে সে অশালীন আচরণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার আকস্মিকতায় মহিলারা প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং চিৎকার শুরু করলে হোটেলের নিরাপত্তা কর্মীরা তড়িঘড়ি সেই দিকে ছুটে আসেন। প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরপরই পলাশ রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের কঠোর জেরার মুখে অভিযুক্ত নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পলাশের দাবি, ওই মহিলারা যে অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্রমূলক। তার বক্তব্য, লবিতে অত্যধিক ভিড় থাকার কারণে চলার পথে দুর্ঘটনাবশত তাদের সঙ্গে সামান্য স্পর্শ হয়েছিল, যার পেছনে তার কোনো অশালীন উদ্দেশ্য ছিল না। যদিও অভিযুক্তের এই দাবি মানতে নারাজ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে শাসক দল। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিগত দিনে নারী নিরাপত্তা নিয়ে যে ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্ক উঠেছিল, বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে উঠতে ও জনমানসে আস্থা ফেরাতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত পলাশ রায়ের দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা অন্যান্য হোটেল কর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী দুই মহিলার বয়ানও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিসিটিভি ফুটেজও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ধৃতকে যথাসময়ে আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পেছনের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন জানানো হবে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার দিন প্রচুর মানুষের সমাগম ছিল, কারণ বহু মানুষ ভারত ও ব্রাজিলের ম্যাচ দেখার জন্য হোটেলে ভিড় করেছিলেন। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কেউ এই ধরনের অসামাজিক কাজ করবে, তা হোটেলের নিরাপত্তার জন্য সত্যিই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঘটনার পর থেকে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় হোটেলের অন্যান্য আবাসিকদের মধ্যেও ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, খুব দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। পুরো বিষয়টি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে রয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে। কলকাতার মতো শহরে এমন ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে ফের নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সাধারণ মানুষের কপালে।








