এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নাগাল নেই ভারতীয় বায়ুসেনার, স্বীকারোক্তি প্রধানের

ভারতীয় বায়ুসেনার সক্ষমতা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে যখন সারা বিশ্বে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। ভারতের বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং সম্প্রতি একটি সাংবাদিক বৈঠকে আমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডারের উপস্থিতিতেই বায়ুসেনা প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কাছাকাছি ঘেঁষার সুযোগ ভারতীয় বায়ুসেনাকে দেওয়া হয় না। এই বিষয়টি সামরিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

যোধপুরে আয়োজিত ‘তরঙ্গ শক্তি’ নামক বহুজাতিক বায়ুসেনা মহড়ার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ভারত এবং আমেরিকা দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে, তবুও এফ-৩৫ বিমানের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করে, তা বায়ুসেনা প্রধানের এই উক্তিতে পরিষ্কার হয়ে গেল। মূলত এই বিমানের রাডার প্রযুক্তি এবং এর অভ্যন্তরীণ গঠনশৈলী অত্যন্ত গোপনীয়। মার্কিন প্রশাসন মনে করে যে, এই প্রযুক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরেই অত্যন্ত জরুরি।

এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং জানিয়েছেন, এই বিধিনিষেধের ফলে ভারতের পাইলটরা বা প্রযুক্তিবিদরা সরাসরি এই বিমানের প্রযুক্তিগত অন্দরে প্রবেশ করতে পারেন না। তবে এটি নিয়ে কোনো ক্ষোভ নয়, বরং এক ধরনের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে বায়ুসেনা প্রধানের কণ্ঠে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই যুদ্ধবিমানটি শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ঘনিষ্ঠতম মিত্রদেশগুলির হাতেই ন্যস্ত। ভারত দীর্ঘ দিন ধরে রাফাল এবং সুখোই-৩০ এমকেআই এর মতো উন্নত মানের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এলেও, পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ বিমানের প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং এর কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়টি দীর্ঘদিনের পুরোনো।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জেনারেল কেভিন স্নাইডার উপস্থিত থাকলেও তিনি এই বিষয়ে সরাসরি কোনো দীর্ঘ মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। তবে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারত ও আমেরিকার সামরিক মহড়াগুলোতে এফ-৩৫ এর উপস্থিতি থাকলেও, তার রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপারেশনাল দিকটি সম্পূর্ণভাবেই মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কোনো বিদেশী শক্তিকেই তারা এই বিমানের খুঁটিনাটি যাচাই করার সুযোগ দেয় না।

এই ঘটনার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বলতে গেলে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালের তুলনা এবং রাজ্যের সামগ্রিক সামরিক নিরাপত্তার বিষয়টিও মাঝেমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। তবে বর্তমান সময়ে ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিকীকরণ এবং আমেরিকার সাথে যৌথ মহড়া নিঃসন্দেহে দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও সুসংহত করবে। যদিও এফ-৩৫ এর নাগাল না পাওয়া ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য এক ধরনের সীমাবদ্ধতা, তবুও নিজস্ব প্রযুক্তিতে ‘তেজস’ বা অন্যান্য উন্নত বিমান তৈরির মাধ্যমে ভারত স্বনির্ভরতার দিকে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে।

ভারতের বায়ুসেনা প্রধানের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, সামরিক ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব থাকলেও প্রতিটি দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘নো-এন্ট্রি’ নীতি আগামী দিনে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে জল্পনা থাকলেও, ভারতীয় বায়ুসেনার নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই এখন মূল মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। বায়ুসেনার আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে চীন ও পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই ভারতের প্রধান লক্ষ্য।

পরিশেষে, এই খবরের বিস্তারিত তথ্যাদি এবং দুই দেশের মধ্যে হওয়া গোপন চুক্তি বা শর্তাবলীর খুঁটিনাটি আপাতত প্রকাশ্যে আসেনি। তবে এটি স্পষ্ট যে, ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সর্বদা গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, আগামী দিনে আরও উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে এটি নিশ্চিত যে, আকাশসীমা রক্ষায় ভারতীয় বায়ুসেনা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী হয়ে ওঠার পথে কোনো আপস করতে রাজি নয়।