পুজোর ভিড় সামলাতে তৎপর লালবাজার ও রেল, বিশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত

কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। আসন্ন দুর্গাপূজার সময় জনস্রোত সামাল দেওয়া এবং শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক এবং পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। পুজোর কয়েকদিন শহরবাসীর ভিড় সামলানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পুজোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের কাছে বেশ কিছু দাবি রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার এবং রেল প্রশাসন যৌথভাবে একটি সুসমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দিয়েছে যাতে ভিড়ের চাপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

রেল স্টেশন চত্বর এবং তার সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিই ছিল আজকের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। শিয়ালদহ এবং হাওড়া স্টেশনে পুজোর সময় প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। এই ভিড় সামলাতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন এবং পর্যাপ্ত রেল পুলিশ বা আরপিএফ কর্মীদের সমন্বয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে কোন কোন রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার এবং রেলের আধিকারিকরা যৌথভাবে শহর পরিদর্শন করবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন এবং বড় পুজোর মণ্ডপের আশেপাশে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। গতবারের তুলনায় এবার প্রযুক্তিগত ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এবং ড্রোনের মাধ্যমে ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক নির্দেশের পর পুলিশ এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে। কলকাতার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়কালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ছাপিয়ে এবার আরও আধুনিক এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুজোর ভিড় সামলাতে শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে অতিরিক্ত লোকাল ট্রেন চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তার জন্য বিশেষ হেল্প ডেস্ক খোলার কথাও জানানো হয়েছে। ভিড় ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি, জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলো যাতে জ্যামে না পড়ে, তার জন্য বিশেষ গ্রিন করিডোরের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন পুজোর উদ্যোক্তাদের সাথেও পুলিশ প্রশাসনের বৈঠক খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্যান্ডেলে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং জরুরি বহির্গমন পথ রাখার বিষয়ে গত বছরের কড়া নির্দেশিকা এবার আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারংবার প্রশাসনিক বৈঠকে উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্যই আজ পুলিশ ও রেলের এই যৌথ উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিপক্ষ দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো সংশয় থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে শাসকদল বিজেপি। সমস্ত পক্ষের অংশগ্রহণে এবারের দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসন কোনো ত্রুটি রাখতে চাইছে না। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন উভয় পক্ষ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই নতুন ট্রাফিক পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে বলে লালবাজার সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে, শহরবাসীর নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে কলকাতা প্রশাসন এখন ব্যস্ত চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজে।