লক্ষ্মী ভাণ্ডার ও যুব সাথীর পর DA বৃদ্ধি তৃণমূলের পালে হাওয়া কাড়ল

লক্ষ্মী ভাণ্ডার ও যুব সাথীর পর DA বৃদ্ধি তৃণমূলের পালে হাওয়া কাড়ল
লক্ষ্মী ভাণ্ডার ও যুব সাথীর পর DA বৃদ্ধি তৃণমূলের পালে হাওয়া কাড়ল

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। বিশেষত মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল সরকার সমাজের একেবারে প্রান্তিক স্তরে পৌঁছে যেতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধি। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চার শতাংশ অতিরিক্ত ডিএ প্রদানের ঘোষণার ফলে প্রশাসনিক স্তরে যে অসন্তোষের মেঘ জমেছিল, তা অনেকটাই কেটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে একটি বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। মাসে মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার ভোটদাতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই প্রকল্পের জনপ্রিয়তা এতটাই যে বিরোধী দলগুলিও তাদের প্রচারের ময়দানে এই প্রকল্পকে অস্বীকার করতে পারছে না। মহিলাদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের একটি মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একইভাবে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের হাজার হাজার যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। কর্মসংস্থানের বাজারে সরাসরি প্রবেশ করার আগে এই সহয়তা তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের এই যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা তরুণ প্রজন্মের কাছে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে। এই প্রকল্পগুলি যখন তৃণমূলের পালে হাওয়া দিচ্ছে, ঠিক তখনই ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মীদের মধ্যে শাসকদলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করেছে।

সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘকাল ধরে কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিএ-র দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আন্দোলনের ফলে সৃষ্টি হওয়া এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের এই নতুন ঘোষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী। রাজ্য বাজেট ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ডিএ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তটি সুকৌশলে নেওয়া হয়েছে যাতে ভোটব্যাংকে এর প্রত্যক্ষ প্রতিফলন ঘটে। কর্মচারীদের মন জয় করতে পারলে নির্বাচনের কাজ থেকে শুরু করে বুথ স্তরে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করা সহজ হয়।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুব সাথীর পর এই ডিএ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বিরোধীদের ইস্যুহীন করে দেওয়ার একটি কৌশল বলেও মনে করা হচ্ছে। বিরোধীরা এতদিন ডিএ বকেয়া থাকা নিয়ে সরব ছিলেন, কিন্তু সরকার ধাপে ধাপে তা মেটানোর পথে হাঁটায় সেই আক্রমণের ধার কমেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, জনমুখী প্রকল্প ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার এই সমন্বয় আগামী নির্বাচনে দলের পক্ষে বড় ব্যবধান গড়ে দেবে। সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বজায় রাখা এখন শাসকদলের প্রধান লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলি তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যেখানে সাধারণ ঘরের মা-বোনেদের আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে যুব সাথী এবং মহার্ঘ ভাতার সিদ্ধান্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আসন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।