লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথীর পর ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে এগিয়ে তৃণমূল

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথীর পর ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে এগিয়ে তৃণমূল
    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথীর পর ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে এগিয়ে তৃণমূল

    কলকাতা: রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বরাবরই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য চালু করা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের জনপ্রিয়তা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক সুসংহত করতে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা পৌঁছে দেওয়ার এই মডেলটি গ্রামীণ এবং শহরতলি—উভয় এলাকাতেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাজ্যের অসংখ্য পরিবার এই মাসিক অর্থসাহায্যের ওপর নির্ভর করে তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছে।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাশাপাশি যুব সমাজের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার চালু করেছিল ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদানের এই পরিকল্পনাটি তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। যারা চাকরির সন্ধানে রয়েছেন বা ছোটখাটো কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, তাদের জন্য এই ভাতা একটি বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরণের জনমুখী প্রকল্পগুলি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের সামাজিক ভিত্তি মজবুত করেছে।

    তবে এই সবের মধ্যেও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ ছিল। সরকারি কর্মীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দাবি করে আসছিলেন। বিরোধীরাও এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে বারবার কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছে। সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতেই সম্প্রতি রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের সন্তুষ্ট করতে পারলে প্রশাসনের কাজেও যেমন গতি আসবে, তেমনই আসন্ন নির্বাচনে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং যুবসাথীর মতো জনপ্রিয় প্রকল্পের সুফল ভোগ করা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এবার সরকারি কর্মীদের সমর্থনও যদি তৃণমূলের পক্ষে থাকে, তবে বিরোধীদের লড়াই করা বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ফলে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছেন, এই সামগ্রিক উন্নয়নমূলক এবং কল্যাণকর পদক্ষেপগুলি আগামী নির্বাচনগুলিতে দলের জয়ের পথ আরও প্রশস্ত করবে। বিরোধী দলগুলি যখন নানা অভিযোগ তুলছে, তখন রাজ্য সরকার এই ধরণের অর্থনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে সরাসরি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

    ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে দলীয় কর্মসূচিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথীর কথা তুলে ধরছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তার সঙ্গে নতুন করে ডিএ-র প্রসঙ্গ যোগ হওয়ায় প্রচারে বাড়তি অক্সিজেন পাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। সব মিলিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী এবং মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এখন শাসক দলের পালে জোরদার হাওয়া দিচ্ছে। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবী—সকল স্তরের মানুষকে পাশে পাওয়ার এই কৌশল তৃণমূলকে রাজনীতির ময়দানে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।