গড়িয়ায় পথ দুর্ঘটনার পর দম্পতিকে তোলাবাজির হুমকি, চাঞ্চল্য এলাকায়

কলকাতার উপকণ্ঠে গড়িয়া এলাকায় এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার পর আক্রান্ত দম্পতিকে ঘিরে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গতকাল বিকেলে, যখন গড়িয়া মোড়ের কাছাকাছি একটি ব্যস্ত রাস্তায় এক দম্পতি নিজেদের স্কুটারে করে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ছোট চারচাকার গাড়ি ওই দম্পতির স্কুটারে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় দম্পতি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন এবং অল্পবিস্তর চোট পান।

প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠে ওই দম্পতি যখন অভিযুক্ত গাড়ি চালকের কাছে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কথা বলতে যান, তখনই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, গাড়ি চালক এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন স্থানীয় যুবক উল্টে দম্পতিকেই দুষতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, দম্পতির ওপর চড়াও হয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। হামলাকারীদের দাবি ছিল, দুর্ঘটনার জন্য নাকি তারাই দায়ী এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ তাদের তৎক্ষণাৎ নগদ টাকা দিতে হবে। প্রতিবাদ করলে দম্পতিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পুরো ঘটনাটি দেখে স্থানীয়রা হতবাক হয়ে যান।

ভুক্তভোগী দম্পতির অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা রীতিমতো পেশাদার অপরাধীর মতো আচরণ করছিল। তারা দম্পতির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তাদের স্কুটারের চাবি আটকে রাখে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারীরা দম্পতিকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে সটকে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনা প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী দম্পতি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাস্তায় দুর্ঘটনার পর যে ধরনের সাহায্য বা সহমর্মিতা পাওয়ার কথা ছিল, তার বদলে এমন নৃশংস তোলাবাজির অভিজ্ঞতায় তারা আতঙ্কিত। তাদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতার উপকণ্ঠে সাধারণ মানুষ কতটা সুরক্ষিত?

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই দুষ্কৃতীরা রাস্তায় সাধারণ মানুষের ওপর এমনভাবে দাদাগিরি চালানোর সাহস পাচ্ছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, পুলিশি টহলদারি না থাকায় অপরাধীরা এখন আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার ও বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। বর্তমান সরকার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং এই ধরনের তোলাবাজিকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জমানার তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থাকলেও, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাস্তায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশেপাশের এলাকার মানুষের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। ভুক্তভোগী দম্পতি বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের আঘাত খুব গুরুতর নয় বলেই জানা গেছে। পুলিশ ঘটনার সবিস্তার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকাটিতে নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের নিউজ পোর্টালের ওপর নজর রাখুন। বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।