টাটা গ্রুপ-পরিচালিত এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন পদত্যাগ করেছেন। গত বছরের জুনে একটি মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর, ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নজরদারির মধ্যেই এই পদত্যাগটি এসেছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু এবং মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন। লাইভমিন্ট জানিয়েছে, উইলসনের পদত্যাগের ফলে বোর্ড নতুন সিইও খোঁজার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করবে, যা বিমান সংস্থাটির পুনরুজ্জীবনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদত্যাগ এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য একটি বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ক্যাম্পবেল উইলসনের পটভূমি
নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্যাম্পবেল উইলসন ২০২২ সালে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স থেকে এয়ার ইন্ডিয়াতে যোগ দেন। টাটা গ্রুপ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই বিমান সংস্থাটি অধিগ্রহণ করার পর, তাকে এর পুনর্গঠন এবং ব্যবসায়িক অবস্থার উন্নতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত, কিন্তু তিনি তার আগেই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, এয়ার ইন্ডিয়ার বোর্ড ইতিমধ্যেই নতুন সিইও খোঁজা শুরু করে দিয়েছে। সূত্রমতে, ক্যাম্পবেল বর্তমানে ছয় মাসের নোটিশ পিরিয়ডে আছেন এবং নতুন সিইও নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোম্পানিতেই থাকবেন।
গত বছর ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পবেল উইলসন ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এই দুর্ঘটনায় বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানটিতে থাকা ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে ২৪১ জনই নিহত হন।
বিমান সংস্থাটি অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়
এয়ার ইন্ডিয়া বর্তমানে বিমান সরবরাহে বিলম্বসহ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়াও, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শিথিলতার জন্য বিমান সংস্থাটিকে তিরস্কার করেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এয়ার ইন্ডিয়া উড্ডয়নযোগ্যতার সনদ ছাড়াই আটবার একটি বিমান উড়িয়েছে এবং জরুরি সরঞ্জাম পরীক্ষা না করেই ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। ক্রমাগত লোকসান এবং ঘুরে দাঁড়ানোর ধীরগতিও বিমান সংস্থাটির জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ।







