বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে ভারত বিদেশীদের জন্য ৩০ দিনের ভিসা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে

    নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে চলা বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির জেরে ভারত সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ আরও ৩০ দিনের জন্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মূলত যারা সংঘাতের কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না বা যাতায়াত ব্যবস্থায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকদের ভারতে থাকার আইনি অনুমতি বা ভিসার সময়সীমা বর্তমান মেয়াদের থেকে অতিরিক্ত এক মাস বাড়িয়ে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা করছিলেন, তারা বড়সড় স্বস্তি পেলেন। বিশেষ করে পর্যটন বা চিকিৎসার কারণে যারা ভারতে এসেছেন এবং বর্তমান অস্থিরতায় আটকে পড়েছেন, তাদের জন্য এই বাড়তি সময় অত্যন্ত জরুরি ছিল।

    একইসঙ্গে বিদেশিদের সুবিধার্থে ভারত সরকারের তরফে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতে আগত কোনও বিদেশি নাগরিককে বিশেষ প্রয়োজনে ‘টেম্পোরারি ল্যান্ডিং পারমিট’ (Temporary Landing Permit) প্রদান করা হবে। এটি একটি বিশেষ অনুমতি যা সাধারণত জরুরি অবস্থায় বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশের বা সাময়িকভাবে অবস্থানের সুযোগ করে দেয়। এর ফলে বৈধ ভিসার অভাব থাকলেও বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকরা ভারতের মাটিতে পা রাখার আইনি বৈধতা পাবেন।

    সরকারের এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, সেখানে বিদেশি অতিথিদের সুরক্ষায় এই বাড়তি ৩০ দিনের ভিসা এক্সটেনশন এবং অস্থায়ী ল্যান্ডিং পারমিট বড় ভূমিকা পালন করবে। ভারতীয় অভিবাসন দপ্তর বা ইমিগ্রেশন বিভাগকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে বিদেশি নাগরিকদের কোনও হেনস্থার মুখে পড়তে না হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নীতি নির্ধারণের ফলে বিদেশি নাগরিকদের যেমন সুবিধা হয়, তেমনই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক বার্তা যায়। ভারত বরাবরই ‘অতিথি দেব ভব’ নীতিতে বিশ্বাসী এবং এই সংকটের মুহূর্তে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে সেই বার্তাই পুনরায় দেওয়া হল। বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত এই বাড়তি ৩০ দিনের সময়সীমা বিদেশি নাগরিকদের জন্য একটি বড় সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।