Arjun Singh: পাহাড়ের সিনকোনা শিল্পে নবজোয়ারের বার্তা: বন্ধ কারখানা চালু ও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির আশ্বাস মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের

প্রণব বিশ্বাস,দার্জিলিং : ঐতিহ্যবাহী সিনকোনা চাষের আধুনিকীকরণ, প্রথাগত কাঠামোর বদল এবং শ্রমিকদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পাহাড়ে নতুন দিশা দেখাল রাজ্য প্রশাসন। শ্রম ও পরিবহন মন্ত্রী শ্রী অর্জুন সিং-এর নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আজ দার্জিলিং ও কালিম্পং অঞ্চলের সিনকোনা ডিরেক্টরেটে পৌঁছান। প্রথাগত কুইনাইন উৎপাদনের পরিধি ছাড়িয়ে বহুমুখী কৃষি, ফল ও ফুল চাষের মাধ্যমে কীভাবে পাহাড়ে স্থায়ী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা যায়—তারই সামগ্রিক পর্যালোচনা করা হয় এই সফরে।

কৃষি বহুমুখীকরণ ও প্রকল্প পরিদর্শন

সফরসূচির শুরুতেই শ্রম ও পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে ডিরেক্টরেটের একাধিক উদ্ভাবনী কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শিত প্রকল্পগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

১. ঔষধি ও পুষ্প উদ্যান –  বিশেষ ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদে সমৃদ্ধ ‘হার্বাল হেভেন’, মূল সিনকোনা নার্সারি এবং সিমবিডিয়াম অর্কিড নার্সারি।

২.উদ্যানপালন ও আধুনিক কৃষি: আধুনিক প্রযুক্তিতে কমলালেবুর কলম তৈরি পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ, কিউই বাগান এবং নতুন গড়ে ওঠা স্ট্রবেরি নার্সারি।

প্রথাগত কুইনাইন চাষের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী উচ্চ-মূল্যের ঔষধি গাছ, বৈচিত্র্যময় পুষ্প ও ফল চাষের যে উদ্যোগ ডিরেক্টরেট নিয়েছে, মন্ত্রী অর্জুন সিং তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ঐতিহ্যের সুরক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকার মানুষের টেকসই জীবিকা সংস্থানই সরকারের অগ্রাধিকার।

মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের পর আয়োজিত হয় এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রতিনিধি: শ্রম ও পরিবহন মন্ত্রী শ্রী অর্জুন সিং, পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী শঙ্কর ঘোষ, দার্জিলিংয়ের সাংসদ শ্রী রাজু বিস্তা, প্রতিমন্ত্রী শ্রী বিশাল লামা এবং বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শ্রী বিমল গুরুং।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি: স্থানীয় বিধায়কগণ, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর প্রধান সচিব এবং প্রশাসনিক শীর্ষকর্তারা।

শ্রমিক প্রতিনিধি: বিভিন্ন সিনকোনা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা।

ডিএ বকেয়া, ন্যূনতম মজুরি ও আবাসন

বৈঠকে সিনকোনা বাগানের শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিনের বকেয়া সমস্যা ও অসন্তোষের কথা সরাসরি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। জানানো হয়, ২০১২ সাল থেকে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) স্থগিত হয়ে রয়েছে এবং বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মজুরি মিলছে না।

সব শুনে শ্রম ও পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় একগুচ্ছ স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন:

১. ন্যূনতম মজুরি রূপায়ণ: পাহাড়ি সিনকোনা শ্রমিকদের উপযুক্ত ন্যূনতম মজুরি প্রদান নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২. স্থগিত ডিএ সমাধান: ২০১২ সাল থেকে আটকে থাকা মহার্ঘ ভাতার বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা হবে।

৩. সরকারি আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা: প্রতিটি যোগ্য সিনকোনা শ্রমিক পরিবার যাতে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ (PMAY)-র অধীনে পাকা বাড়ি এবং অন্যান্য সমস্ত সরকারি সামাজিক সুরক্ষা পান, তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

চারটি বন্ধ কারখানা খোলার নির্দেশ

বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বন্ধ কারখানাগুলির পুনর্বাসন। পর্যালোচনা চলাকালীন প্রকাশ্যে আসে যে, সিনকোনা ডিরেক্টরেটের অধীনে থাকা চারটি শিল্প কারখানা বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অর্জুন সিং মুংপু-স্থিত ‘সিনকোনা ও অন্যান্য ঔষধি উদ্ভিদ ডিরেক্টরেট’-এর অধিকর্তাকে অবিলম্বে কারখানা ও সংশ্লিষ্ট বাগানগুলিতে কাজ পুনরায় চালুর আইনি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেন।

পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী সম্পদ রক্ষা, আধুনিক বহুমুখীকরণ এবং শ্রমিক শ্রেণির সামগ্রিক উন্নয়ন—এই তিনের মেলবন্ধনে সিনকোনা খাতকে পুনরায় স্বাবলম্বী করে তোলাই যে রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য, আজকের সফর শেষে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন শ্রম মন্ত্রী অর্জুন সিং।