অসমের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের স্বনির্ভর করতে এবং তাঁদের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অরুণোদয় প্রকল্প চালু করেছিল হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকার। সাম্প্রতিক দফায় প্রায় ৪০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল যাদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা মাফিক এবার বড় অংকের অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।
অসম সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার বহু পরিবার বিশেষভাবে উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিটি উপভোক্তাকে ৯০০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতে পেয়ে উপভোক্তারা তাঁদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্বচ্ছতার সঙ্গে সরাসরি ডিবিটি বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার পদ্ধতির মাধ্যমে এই টাকা জমা করা হয়েছে। উপভোক্তারা জানিয়েছেন যে, উৎসবের মরসুমে বা দৈনন্দিন প্রয়োজনের সময়ে এই অর্থ তাঁদের সংসার চালাতে এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বড় সহায়তা প্রদান করবে।
প্রকল্পের রূপায়ন নিয়ে বলতে গিয়ে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, সঠিক উপভোক্তা নির্বাচন করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এই ৪০ লক্ষ মহিলার তালিকায় মূলত তাঁরাই স্থান পেয়েছেন যাঁদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। উপভোক্তাদের একাংশ সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পালন করায় তাঁরা অত্যন্ত খুশি। এই টাকা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
বিগত কয়েক বছরে অসমে মহিলাদের উন্নয়নের স্বার্থে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে অরুণোদয় প্রকল্প তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী প্রকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই প্রকল্পের ব্যাপক সাফল্য দেখে সরকার আগামী দিনে এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করার কথা ভাবছে। বর্তমান কিস্তির টাকা পৌঁছনোর পর উপভোক্তারা কেবল আর্থিক সুরাহা পাচ্ছেন না, বরং তাঁদের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাসও তৈরি হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই টাকার প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। যখন একসাথে ৪০ লক্ষ মহিলার হাতে এই পরিমাণ অর্থ পৌঁছায়, তখন স্থানীয় বাজারগুলিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং যোগ্য মহিলারা যাতে কোনওভাবেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। উপভোক্তারা সময়মতো টাকা পাওয়ায় সরকারের প্রতি তাঁদের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে বিভিন্ন মহলে।








