কলকাতা: আইপিএলের চার-ছক্কার ধামাকাও এবার হার মেনেছে রাজনীতির ময়দানের কাছে। ভোট গণনার বাকি আর মাত্র এক মাস, আর তার আগেই সরগরম কলকাতার অলিগলি। তবে আলোচনার কেন্দ্রে শুধু চায়ের কাপের তুফান নয়, বরং বড়বাজারের ‘সোনাপট্টি’ থেকে পোস্তা— সর্বত্র এখন কোটি কোটি টাকার বাজির খেলা। সাট্টা বাজারের কারবারিদের মতে, এবার ‘পরিবর্তন’ নয়, পাল্লা ভারী ‘প্রত্যাবর্তনের’ দিকেই।
আসন ভিত্তিক লড়াইয়ে নজর সাট্টাবাজদের
এবারের সাট্টা বাজারে ট্রেন্ড কিছুটা আলাদা। কোন দল ক্ষমতায় আসবে, তার চেয়েও সাধারণ মানুষের বেশি আগ্রহ নির্দিষ্ট কিছু হেভিওয়েট আসন নিয়ে।
.নন্দীগ্রাম: শুভেন্দু অধিকারী কি নিজের গড় রক্ষা করতে পারবেন?
.ভাঙড়: নৌশাদ সিদ্দিকি বনাম শওকত মোল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী?
.বরাহনগর: সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সজল ঘোষ নাকি সায়নদীপ— বাজির দরে কে এগিয়ে? এমনকী পানিহাটিতে ‘অভয়ার মা’ কিংবা অর্জুন সিংয়ের ভাগ্য নিয়েও চলছে দর কষাকষি। বিশেষ করে বামেরা এবার বিধানসভায় খাতা খুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে বাজি ধরছেন অনেকেই।
তৃণমূলের দর কত, বিজেপির কত?
সাট্টা বাজারের বর্তমান রেট বলছে, শাসক দল তৃণমূলের জয়ের পক্ষে ১ টাকায় মিলছে ১.৫০ টাকা। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষে সেই দর ৩ টাকা। অর্থাৎ, ফাটকা কারবারিদের মতে তৃণমূলের জেতার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাদের অনুমান, তৃণমূল ১৭৮ থেকে ১৮৫টি আসন পেতে পারে এবং বিজেপি ১০০-র আশেপাশে থমকে যেতে পারে।
পুলিশি নজরদারি এড়িয়ে রমরমা কারবার
বে-আইনি জেনেও বড়বাজারের অলিগলিতে এখন উৎসবের মেজাজ। এক সাট্টা ব্যবসায়ীর কথায়, “পুলিশি ধরপাকড় তো আছেই, কিন্তু ভোটের সময় লাভও অনেক। মানুষ এখন আইপিএল ছেড়ে কোন প্রার্থীর সভায় কত ভিড় হচ্ছে, সেই খবর রেখে টাকা লাগাচ্ছেন।” প্রায় ৪০টি আসনকে ‘হাই ভোল্টেজ’ তকমা দিয়ে চলছে এই টাকার খেলা।
ভোটের ফল বেরোলে সাট্টা বাজারের এই ভবিষ্যৎবাণী মিলবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত রাজনীতির পারদ চড়িয়ে ফাটকা বাজারে চলছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন।








