পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। এরই অংশ হিসেবে রাজ্যে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘পরিবর্তন যাত্রা’। এই মেগা কর্মসূচিতে অংশ নিতে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ মোট ছয়জন হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাংলায় পা রাখছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফরকে ঘিরে রাজ্য বিজেপির অন্দরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই পরিবর্তন যাত্রা কেবল একটি প্রচার কর্মসূচি নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল ধরানোর একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। অমিত শাহ এবং রাজনাথ সিং ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন নীতিন গড়কড়ি, ধর্মেন্দ্র প্রধান, স্মৃতি ইরানি এবং পীযূষ গোয়েল। প্রতিটি রথযাত্রার সূচি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় বিজেপির বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের এই ঘনঘন সফর ভোটারদের মনোভাবে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ এবং মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এই রথযাত্রা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। শাহের সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি মেদিনীপুর ও ঠাকুরনগরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় জনসভা করতে পারেন। অন্যদিকে, রাজনাথ সিং উত্তরবঙ্গের চা বলয় এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি পরখ করে দেখবেন। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়ার পর থেকেই বিধানসভা দখলকে পাখির চোখ করেছে দিল্লির নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভাগুলোর পাশাপাশি এই ছয় মন্ত্রীর রোড-শো এবং ছোট ছোট সভাগুলো তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ এই পরিবর্তন যাত্রার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে এই যাত্রাই হবে শেষ পেরেক। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই সফরকে ‘বহিরাগতদের আনাগোনা’ বলে কটাক্ষ করেছে। তারা দাবি করেছে, দিল্লি থেকে যত নেতাই আসুক না কেন, বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরেই আস্থা রাখবেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মূল আকর্ষণ এই হাই-ভোল্টেজ পরিবর্তন যাত্রা। মন্ত্রীদের সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং জেলা স্তরের নেতাদের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয় সাধনের কাজ চলছে। প্রতিটি জনসভায় ভিড় টানতে এবং ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তথ্য-প্রযুক্তি সেলকেও সক্রিয় করা হয়েছে। গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা এবং রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা তুলে ধরাই হবে এই যাত্রার মূল থিম। রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির হাত ধরে বড় ধরনের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এই ছয় মন্ত্রীর চারপাশেই আবর্তিত হবে।








