কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বা রাজনৈতিক রথযাত্রা কর্মসূচির ওপর আরোপিত বাধা সরিয়ে নিয়েছে। তবে এই অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বা ‘রাইডার’ যুক্ত করে দিয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে, তবে তা যেন জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত না করে। মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার পক্ষের আইনজীবীরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তারা দাবি করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু স্পর্শকাতর এলাকা দিয়ে এই যাত্রা গেলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপির আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং রাজ্য সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই যাত্রায় বাধা দিচ্ছে। আদালত উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে নির্দেশ দেয় যে, পরিবর্তন যাত্রা চলাকালীন কোনো অবস্থাতেই উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়া যাবে না। প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে যাত্রার রুট ম্যাপ অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে জমা দিতে হবে। এছাড়া, যেখানে যেখানে জনসভা হবে, সেখানে পুলিশি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আদালত বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, স্কুল ছুটির সময় বা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিনগুলোতে ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে বিজেপিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই নির্দেশের পর বিজেপির রাজ্য দপ্তরে খুশির হাওয়া বইলেও, দলের নেতারা জানিয়েছেন তারা আদালতের প্রতিটি শর্ত মেনে চলবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন যাত্রা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির জনসমর্থন যাচাইয়ের একটি বড় মাধ্যম হতে চলেছে। বিজেপির এই যাত্রা পাঁচটি ভিন্ন রুট দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে, যা রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রকেই কভার করার লক্ষ্য রাখে। নবান্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ কপি হাতে পাওয়ার পর তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পুলিশ প্রশাসনকে প্রতিটি জেলায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এই রায়ের ফলে রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় এল বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল যে পুলিশ প্রশাসন কেবল শাসক দলকে সভার অনুমতি দিচ্ছে, কিন্তু হাইকোর্টের এই হস্তক্ষেপ সেই ধারণায় পরিবর্তন আনল। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর এই বিজয়কে বিজেপি তাদের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। এখন দেখার বিষয়, শর্ত মেনে কতটা সফলভাবে বিজেপি এই বিশালাকার কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারে। রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে এই যাত্রার প্রভাব কী পড়ে, তার ওপর নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।








