BJP Netas Misogyny: ‘স্ত্রীদের পরীক্ষা করুন’, বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি নেতার

BJP Netas Misogyny: ‘স্ত্রীদের পরীক্ষা করুন’, বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি নেতার
BJP Netas Misogyny: ‘স্ত্রীদের পরীক্ষা করুন’, বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি নেতার

বিজেপি নেতার সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছেছে। সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি অত্যন্ত অপমানজনক ভাষায় নারীদের আক্রমণ করছেন। সরাসরিভাবে ‘স্ত্রীদের পরীক্ষা করার’ কথা বলে তিনি যে কুৎসিত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তাকে ‘চরম নারীবিদ্বেষ’ বা ‘Misogyny’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নেটিজেনরা। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতার মুখ থেকে এহেন মন্তব্য অনভিপ্রেত। যেখানে নারী সুরক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে, সেখানে এক দায়িত্বশীল নেতার এই ধরণের কুরুচিকর শব্দ চয়ন সামাজিক অবক্ষয়েরই ইঙ্গিত দেয়। ঘটনার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। নেটিজেনদের একাংশের মতে, এই ধরণের মন্তব্য কেবল নারীদের অপমান নয়, বরং পুরো সমাজ ব্যবস্থার প্রতি এক চরম অবজ্ঞা।

বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুতে বিজেপিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিজেপির অন্দরে নারীর প্রতি সম্মানবোধের অভাব রয়েছে এবং এই নেতার মন্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন নারী অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলি অবিলম্বে এই নেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করছেন, ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং এই মানসিকতার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিতর্ক দানা বাঁধতেই বিজেপি নেতার পালটা সাফাই দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ করা গেছে। তবে তাতে ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বরং বিতর্কের মাত্রা আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, একজন নেতার কি প্রকাশ্যে এই ধরণের ব্যক্তিগত ও অশালীন কথা বলার অধিকার আছে? বিশেষ করে যখন বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নারীদের সম্মান ও অধিকারের প্রশ্ন। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, আধুনিক সমাজে রাজনীতিতে ভাষা ব্যবহারের সংযম কতটা জরুরি।

জাতীয় মহিলা কমিশনও এই ঘটনার দিকে নজর রাখছে বলে জানা গেছে। বিরোধীদের দাবি, এই ধরণের মন্তব্য সমাজে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং নারী সুরক্ষাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে যদিও এখনও সরকারিভাবে কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, তবে দলের অন্দরেও এই নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে। সব মিলিয়ে, ‘স্ত্রীদের পরীক্ষা করা’ সংক্রান্ত এই মন্তব্য এখন ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।