Coal Smuggling Case: কয়লা পাচার কাণ্ডে দুর্গাপুরে পুলিশের বাড়িতে ইডি হানা

    Coal Smuggling Case: কয়লা পাচার কাণ্ডে দুর্গাপুরে পুলিশের বাড়িতে ইডি হানা
    Coal Smuggling Case: কয়লা পাচার কাণ্ডে দুর্গাপুরে পুলিশের বাড়িতে ইডি হানা

    রাজ্যে কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে এবার পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। বুধবার সাতসকালে পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে পৌঁছে যান ইডির গোয়েন্দারা। স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে এই আধিকারিকের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই ইডির মূল লক্ষ্য।

    তদন্তকারী দল সূত্রে খবর, দুর্গাপুরের ওই পুলিশ আধিকারিকের বাসভবনের প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সিল করে দেওয়া হয়েছে। ইডি আধিকারিকরা যখন বাড়ির ভেতরে নথি পরীক্ষা করছেন, সেই সময় বাইরে মোতায়েন রয়েছে সিআরপিএফ-এর জওয়ানরা। স্থানীয় কাউকেই বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কোনও তথ্য রয়েছে কি না, সে ব্যাপারেই মূলত জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরেই কয়লা পাচার কাণ্ডের শিকড় খুঁজতে তৎপর কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। এর আগে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনিক আধিকারিকের নাম এই মামলায় জড়িয়েছে। দুর্গাপুরের এই তল্লাশি অভিযান সেই বৃহত্তর তদন্তেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ইডি আধিকারিকরা ডিজিটাল ডিভাইস এবং ব্যাংকের নথিপত্রও খতিয়ে দেখছেন বলে খবর।

    উল্লেখ্য, কয়লা পাচার কাণ্ডে এর আগেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি ও সিবিআই। আসানসোল-দুর্গাপুর বেল্টে কয়লা পাচারের জাল কতটা বিস্তৃত, তা নিয়ে গোয়েন্দাদের হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই নতুন অভিযান চালানো হচ্ছে। এই তল্লাশির ফলে নতুন কোনও তথ্য বা প্রভাবশালী যোগ সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

    সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি বা তাঁর ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা নিয়ে ইডি-র পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তল্লাশি প্রক্রিয়া দীর্ঘক্ষণ ধরে চলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য পুলিশের কোনও আধিকারিকের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই হানা প্রশাসনিক স্তরেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ইডি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের সঙ্গে কয়লা পাচারের লভ্যাংশের বন্টনের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কোনও সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে কলকাতায় তলব করা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্গাপুরের ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া গতিশীল রাখা হচ্ছে।