যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষারত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল ট্রাম্প প্রশাসন। এফ-১ এবং জে-১ ভিসা নিয়ে সেদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য এই নয়া নিয়ম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। যারা বর্তমানে এই বিশেষ ভিসা শ্রেণিতে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য এই সময়সীমা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের তাদের বর্তমান শিক্ষাবর্ষ বা সেমিস্টার শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজ দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অভিবাসন দফতর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে পরবর্তীকালে ভিসা নবায়ন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রামের অধীনে রয়েছেন, তাদের জন্য এই নিয়ম আরও কড়াকড়িভাবে প্রযোজ্য হবে।
কলকাতার অনেক শিক্ষার্থী প্রতি বছর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এই নতুন নির্দেশিকার ফলে তাদের শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী যারা আসন্ন শীতকালীন সেমিস্টারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের এখন এই সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে কিছু ছাড় দেওয়া হতে পারে, তবে তার জন্য উপযুক্ত নথি এবং কারণ দর্শাতে হবে।
বর্তমানে এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার শেষে দেশে ফেরার প্রক্রিয়াটি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে মার্কিন প্রশাসন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা নিয়মে এই পরিবর্তনের প্রধান লক্ষ্য হলো অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং সুশৃঙ্খল করে তোলা। কোনো শিক্ষার্থী যদি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে ব্যর্থ হন, তবে কেন দেরি হলো এবং তার স্বপক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইমিগ্রেশন সার্ভিসকে জানাতে হবে।
যারা এই মুহূর্তে ছুটিতে নিজ দেশে রয়েছেন বা অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। বিস্তারিত তথ্যের জন্য শিক্ষার্থীদের সরাসরি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের (USCIS) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত চেক করার কথাও বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বরাবরই উল্লেখযোগ্য। তাই এই নতুন নিয়মে কলকাতার বহু পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে উদ্বেগের কারণ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, যদি শিক্ষার্থীরা নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো আইনি সাহায্যের জন্য অনুমোদিত ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ঠিক কতজন শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বা তাদের পড়াশোনায় কতটা বিঘ্ন ঘটবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত পরিসংখ্যান বা তথ্য এখনও সরকারিভাবে উপলব্ধ হয়নি। সংশ্লিষ্ট মার্কিন দপ্তরের তরফে পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্টীকরণ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে সরকারি নির্দেশের অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








