ভারতের শিল্প ও গার্হস্থ্য খাতে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়লার মজুদ নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন দিনগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত কয়লা তাদের ভাণ্ডারে মজুদ রয়েছে। বর্তমানে ভারতের বেশিরভাগ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লা ভিত্তিক হওয়ায়, গ্রীষ্মকালীন চাহিদার এই সময়টিতে সিআইএলের এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোল ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা গত কয়েক মাস ধরে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় গতি এনেছে। কোল ইন্ডিয়া আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কাছে গড়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের মজুদ রয়েছে, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম। এছাড়া খনি মুখগুলোতেও বিপুল পরিমাণ কয়লা মজুত রাখা হয়েছে যাতে রেলওয়ে রেক পাওয়া মাত্রই তা গন্তব্যে পাঠানো যায়। কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, রেলওয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়লা পরিবহনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তরাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সেখানে কয়লা সরবরাহে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কোল ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি পিটহেড এবং পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতে মোট স্টকের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে যাতে হঠাৎ চাহিদা বাড়লে লোডশেডিংয়ের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। বিদ্যুৎ মন্ত্রকের সাথে নিয়মিত বৈঠক করে কোল ইন্ডিয়া তাদের উৎপাদন কৌশল নির্ধারণ করছে। বৈশ্বিক বাজারে কয়লার দাম ওঠানামা করলেও দেশীয় উৎপাদনের ওপর জোর দিয়ে ভারত সরকার বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। এর ফলে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরাও এখন কোল ইন্ডিয়ার সরবরাহের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সিআইএল কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, বর্ষা শুরুর আগেই তারা রেকর্ড পরিমাণ কয়লা মজুত নিশ্চিত করতে পারবেন। কয়লা খনিগুলোর আধুনিকীকরণ এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে খনিগুলোতে কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে যাতে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য, আর সেই লক্ষ্যেই কোল ইন্ডিয়া তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করে সংস্থাটি জানিয়েছে, কয়লার অভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই। কোল ইন্ডিয়ার এই সময়োচিত পদক্ষেপ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








