কলকাতায় বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের সংকট, রেস্তোরাঁয় পরিষেবা ব্যাহত

কলকাতায় বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের সংকট, রেস্তোরাঁয় পরিষেবা ব্যাহত
কলকাতায় বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের সংকট, রেস্তোরাঁয় পরিষেবা ব্যাহত

কলকাতা সহ রাজ্যজুড়ে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের জোগানে বড়সড় টান পড়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে মহানগরের অধিকাংশ ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে থাকা মজুত ভাণ্ডার প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশিকার পরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে দেশের অগ্রাধিকারহীন ক্ষেত্রগুলির জন্য রান্নার গ্যাসের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। ফলে বাজারে নতুন করে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ প্রায় থমকে গিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে যে সামান্য পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, তা শুধুমাত্র ছাড়প্রাপ্ত বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলির জন্যই সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং স্কুলের মতো জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলি। এর ফলে শহরের হাজার হাজার ছোট-বড় রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এবং খাবারের দোকানগুলি সিলিন্ডার পেতে হিমশিম খাচ্ছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম পরিচালনা করতে পারছেন না।

শহরের বিভিন্ন প্রান্তের রেস্তোরাঁ মালিকরা জানাচ্ছেন যে, বুধবার রাত থেকেই সিলিন্ডারের অভাব প্রকট হতে শুরু করে। অনেক জায়গায় ডিস্ট্রিবিউটররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁরা সাধারণ বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করতে পারবেন না। এই গ্যাস সংকটের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে মূল্যবৃদ্ধির কোপ। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় একদিকে যেমন খরচে টান পড়ছে, অন্যদিকে জোগান না থাকায় বাধ্য হয়ে বহু দোকান তাদের মেনু কার্ড ছোট করতে বা পরিষেবার সময় কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্ষেত্রগুলিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে উৎসবের মরসুমের প্রাক্কালে কলকাতার মতো মেট্রো শহরে এই ধরনের জোগান বিভ্রাট খাদ্য ও আতিথেয়তা শিল্পের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশ জানিয়েছে, যতক্ষণ না মন্ত্রক থেকে পুনরায় উৎপাদনের সবুজ সংকেত মিলছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাজারে বাণিজ্যিক গ্যাসের এই আকাল মিটবে না।

বর্তমানে ডিস্ট্রিবিউটররা শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশ মেনে জরুরি পরিষেবাগুলিকেই পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সাধারণ বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে সিলিন্ডার বুকিং প্রায় বন্ধ বললেই চলে। শহরের ক্যাটারিং ব্যবসায়ীরাও এই সংকটের জেরে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কারণ, অগ্রিম বুকিং নেওয়া অনুষ্ঠানগুলিতে সঠিক সময়ে খাবার সরবরাহ করা এখন তাঁদের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জোগান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।