কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা প্রশাসনিক তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত থিতিয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এলাকাটি যে উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল, বৃহস্পতিবার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপে তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। কার্যত দুর্গ হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মসূচি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষ আধিকারিকরা ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা বা অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে—এমন জল্পনা চললেও, প্রশাসন মূলত বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ (RAF) নামিয়ে পরিস্থিতি হাতের মুঠোয় রাখে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও এলাকাটিকে অনেকটা দুর্গের চেহারা দিয়েছিল। বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্ম যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করাই ছিল পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, যে সংগঠনের ব্যানারে মসজিদের জন্য জমি ব্যবহারের দাবিতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তারা শেষমেশ বড় কোনো জমায়েত করতে পারেনি। পুলিশের বাধার মুখে এবং কড়া নজরদারির কারণে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া পক্ষগুলি পিছু হটতে বাধ্য হয়। এলাকার ব্যবসায়ীরাও স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে গিয়েছেন, যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা ছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হয়েছে যাতে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো রকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দিনে বিমানবন্দর চত্বরে মসজিদের নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেশ কিছু মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক পক্ষ ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে সরব হয়েছিলেন, অন্য পক্ষ সরকারি জমিতে অবৈধ দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসন এই মুহূর্তে কোনোভাবেই অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করতে রাজি নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের বিমানবন্দরের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখার জন্য যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও কঠোর করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও এলাকাটির দিকে নজর রাখছে। কোনো প্রকার প্ররোচনামূলক বক্তব্য বা উস্কানিমূলক পোস্ট যাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর স্থির হয়েছে, আপাতত বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকাটিতে টহল দেবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বড় কোনো জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তাতে জনজীবন বিঘ্নিত হচ্ছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকালে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পর দোকানপাট ও বাজারঘাট স্বাভাবিকভাবেই খুলতে দেখা গেছে। বিমানবন্দর যাওয়ার পথে যানজটও অন্য দিনের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে এখনো কিছু এলাকায় জটলা বা আলোচনা চলছে, কিন্তু পুলিশি টহলের কারণে তা কোনো আন্দোলনের রূপ নিতে পারছে না।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলের মতে, এই ধরনের স্পর্শকাতর ইস্যুতে আইন মেনে চলাই একমাত্র পথ। জমির মালিকানা বা নির্মাণ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা আদালতে জানানোর সুযোগ রয়েছে। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো অগ্রহণযোগ্য। আপাতত গোটা এলাকাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো বিক্ষোভকারীর পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো বড়সড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন। আগামী দিনেও বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সংক্রান্ত আরও তথ্য এই মুহূর্তে সরকারিভাবে পাওয়া যায়নি।








