রাজ্যের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে আবারও সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি তরফে বিভিন্ন শিল্প সংস্থাকে যে আর্থিক সুবিধা বা ইনসেন্টিভ প্রদান করা হয়, তার বিনিময়ে সুনির্দিষ্টভাবে কর্মসংস্থান তৈরির দাবি তুলেছেন তিনি। নন্দীগ্রামের বিধায়কের দাবি, সরকারি কোষাগার থেকে শিল্পপতিদের যে ছাড় বা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, তার প্রতিফলন যেন সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট হয়। শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক ও শিল্প মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
কলকাতা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট করেছেন যে, শিল্পায়নের নামে কেবলমাত্র বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলে চলবে না। তিনি দাবি করেছেন, যে সমস্ত শিল্প গোষ্ঠী বা সংস্থা সরকার থেকে কর ছাড় বা বিশেষ ছাড়পত্র পাচ্ছে, তাদের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বেকার যুবক-যুবতীর চাকরির দায়বদ্ধতা নিতে হবে। যদি কোনো সংস্থা সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করার পরেও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন। তার মতে, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকার যুবক আজ কর্মসংস্থানের অভাবে দিশেহারা, এমতাবস্থায় সরকারি সহায়তায় পরিচালিত শিল্প প্রকল্পগুলোতে রাজ্যের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বর্তমান সরকার শিল্পায়নের নামে যে প্রচার চালাচ্ছে, তার বাস্তব চিত্রটি অনেকটাই ভিন্ন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিগত কয়েক বছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিল্প প্রকল্পগুলোতে কতজন স্থানীয় মানুষ সরাসরি স্থায়ী চাকরি পেয়েছেন? তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য তিনি রাজ্য সরকারকে শ্বেতপত্র প্রকাশের চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন। বিরোধী দলনেতার সাফ বক্তব্য, সরকারি তহবিল সাধারণ জনগণের করের টাকায় গড়ে ওঠে। তাই সেই তহবিল যদি শিল্পপতিদের প্রসারের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে সেই উন্নয়নের সুফল অবশ্যই রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। তিনি শিল্প নীতির পুনর্বিন্যাসের ওপর জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, কর্মসংস্থানমুখী শিল্পায়নই এখন সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য আসন্ন দিনগুলিতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে। বিরোধী দলনেতা একদিকে যেমন সরকারের আর্থিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনই বেকারত্বের জ্বলন্ত সমস্যাটিকেও সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে বিনিয়োগ টানার নামে বড় বড় সভা আয়োজন না করে, বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে নজর দিক প্রশাসন। শিল্পাঞ্চলে যাতে স্থানীয়দের অধিকার লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে তিনি কঠোর নজরদারিরও আর্জি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শিল্প সংস্থাগুলির ওপর কর্মসংস্থানের এই শর্ত চাপানো কতটা বাস্তবসম্মত বা আইনিভাবে কতখানি গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে অবশ্য ভিন্ন মত রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে। অনেকেই মনে করছেন, শিল্পের আধুনিকীকরণের সঙ্গে কর্মসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শুভেন্দু অধিকারী তার দাবিতে অনড় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কর্মসংস্থানহীন শিল্প উন্নয়ন রাজ্যের প্রকৃত সমৃদ্ধি আনতে ব্যর্থ হবে। এই দাবির প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে বা কোনো নতুন নীতি প্রণয়ন করে কি না, সে দিকেই এখন নজর থাকবে সাধারণ মানুষের। সংবাদ সংগ্রহের সময় পর্যন্ত এই বিষয়ে আরও কোনো বিশদ তথ্য বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি।








