দিল্লিতে ডোভাল-শামসুল বার্তা, ঢাকায় রুদ্ধদ্বার নৈশভোজ: বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে শুরু জোর কূটনৈতিক জল্পনা

বিশেষ সংবাদদাতা, ঢাকা ও নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিবিশেষ সংবাদদাতা, ঢাকা ও নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তথা ‘সিএসএফ’ (CSF)-এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) এ কে এম শামসুল ইসলামের মধ্যে এক সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক ঘিরে ঢাকায় শুরু হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোড়ন। বিমসটেক (BIMSTEC) প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাদের সম্মেলনের ফাঁকে মাত্র ১০ মিনিটের এই আলোচনার পরেই ঢাকায় ফিরে সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজের আয়োজন করেন শামসুল ইসলাম। ঘটনাচক্রে, এই নৈশভোজ ও তার পরবর্তী ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক মহলে নানা রাজনৈতিক-কৌশলগত সমীকরণ তৈরি হয়েছে।ত ডোভাল এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তথা ‘সিএসএফ’ (CSF)-এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) এ কে এম শামসুল ইসলামের মধ্যে এক সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক ঘিরে ঢাকায় শুরু হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোড়ন। বিমসটেক (BIMSTEC) প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাদের সম্মেলনের ফাঁকে মাত্র ১০ মিনিটের এই আলোচনার পরেই ঢাকায় ফিরে সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজের আয়োজন করেন শামসুল ইসলাম। ঘটনাচক্রে, এই নৈশভোজ ও তার পরবর্তী ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক মহলে নানা রাজনৈতিক-কৌশলগত সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

ডোভাল-শামসুল আলোচনা ও ভারতের অবস্থান

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শামসুল ইসলাম ১০ মিনিটের একটি সুযোগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি অজিত ডোভালের সামনে তোলেন। তবে সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক বা আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার বিশেষ সুযোগ বা অবকাশ নেই। ডোভালের এই বার্তা কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঢাকার রাজনৈতিক-কৌশলগত বার্তার ক্ষেত্রে এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ঢাকায় ফিরেই রুদ্ধদ্বার নৈশভোজ: কারা ছিলেন, কারা বাদ?

দিল্লি থেকে ঢাকায় ফেরার পরপরই নিজের বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার নৈশভোজের আয়োজন করেন শামসুল ইসলাম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন:

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান (যিনি এই বৈঠকের পরেই ইস্তাম্বুল সফরে রওনা দেন)।

এডমিরাল নাজমুল হাসান:বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান

তবে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যা অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে সামরিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

নৈশভোজের বহুমাত্রিক উদ্দেশ্য

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই নৈশভোজটি একাধিক উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়েছিল:

১. *দিল্লির বার্তার আদান-প্রদান:** ডোভাল-শামসুল বৈঠকের পর ভারতের অবস্থান সেনা ও নৌপ্রধানকে জানানো।

২. বিদায়ী সংবর্ধনা:*মোটমোট মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন সরকার প্রত্যাখ্যান করায় নৌপ্রধান এডমিরাল নাজমুল হাসানের বিদায়কালীন সৌজন্য সাক্ষাৎ।

৩. অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ প্রশমন: পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে সেনাপ্রধান ও নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন কমানোর চেষ্টা।

 

সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বে মতবিরোধ ও সেনাপ্রধানের তুরস্ক সফর

গত কয়েক মাস ধরে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদে পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে শামসুল ইসলাম এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান-এর মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসছিল। বিশেষ করে, বেশ কয়েকজন সিনিয়র অফিসারের পদোন্নতির ফাইল আটকে রাখা এবং তিন জন মেজর জেনারেলকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করার বিষয়টি সরকার অনুমোদন না দেওয়ায় চাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ওয়াকার-উজ-জামানের তুরস্ক সফরের ঠিক প্রাক্কালে এই নৈশভোজকে সেনাবাহিনীর অন্দরের বরফ গলানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই জেনারেল জামান তুরস্ক সফরে গিয়েছেন। সেখানে তিনি তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কইতিমধ্যেই জেনারেল জামান তুরস্ক সফরে গিয়েছেন। সেখানে তিনি তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন। বিশেষ করে,*বগুড়া বিমানঘাঁটিতে একটি তুর্কি ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্য চুক্তি* এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া সফর করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ সুগম করেছিলেন।রবেন এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন। বিশেষ করে,*বগুড়া বিমানঘাঁটিতে একটি তুর্কি ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্য চুক্তি* এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া সফর করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ সুগম করেছিলেন।

 ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি

নৈশভোজে বিদায়ী নৌপ্রধান এডমিরাল নাজমুল হাসানের উপস্থিতি আলাদা নজর কেড়েছে। কারণ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় রাজনৈতিক-সামরিক ঘটনাবলীতে তিনি অন্যতম প্রধান অনুঘটক ছিলেন বলে মনে করা হয়, যাকে সমালোচকরা ‘ছদ্মবেশী সামরিক অভ্যুত্থান’ বলেও অভিহিত করে থাকেন। সেই সময়ে তৎকালীন ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে ওয়াকার-উজ-জামানের যোগাযোগের খবরও সামনে এসেছিল। বর্তমানে নাজমুল হাসানকে কোনও পশ্চিমা দেশে কূটনৈতিক দায়িত্বে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে শামসুল ইসলামের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন এখনও কাটেনি। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফজলে ইলাহী আকবর এই দায়িত্বে সক্রিয় ছিলেন এবং তারেক রহমানের ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াতেও ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি আকবরকে সবরকম সক্রিয় ভূমিকা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার টানাপোড়েন ও বৈদেশিক সম্পর্কের সমীকরণ মেলানোর মাঝে ডোভাল-শামসুল আলোচনা এবং ঢাকার পরবর্তী পদক্ষেপ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।