খবর এইসময় ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৭ বছরের এক অবিসংবাদিত শাসনের নাটকীয় ও রক্তক্ষয়ী অবসান। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর যৌথ অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। রবিবার ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই খবর নিশ্চিত করার পরই বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (ISNA) জানিয়েছে, পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জ্যেষ্ঠ ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি।
অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (সিংহের গর্জন)। খামেনিকে “ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট স্বৈরাচারী” হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, “ইরানি জনগণের জন্য নিজের দেশ ফেরত পাওয়ার এটাই সেরা সুযোগ।” তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে খামেনি বাঁচতে পারেননি এবং এই অভিযান এখনই থামছে না।
নেতৃত্বে রদবদল ও প্রশাসনিক পরিষদ
সংবিধান অনুযায়ী, ইরানে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদে রয়েছেন:
মাসুদ পেজেশকিয়ান: বর্তমান প্রেসিডেন্ট।
গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজে’ই: প্রধান বিচারপতি।
আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি: অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতা ও অভিভাবক পরিষদের প্রতিনিধি।
কে এই আলিরেজা আরাফি?
১৯৫৯ সালে ইয়াজদ প্রদেশের মেইবোদে এক প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারে জন্ম আরাফির। মজার বিষয় হলো, তাঁর পূর্বপুরুষরা ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইসলাম গ্রহণকারী জরথুস্ত্রীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর পিতা শেখ হাজী মহম্মদ ইব্রাহিম আরাফি ছিলেন ইসলামি বিপ্লবের জনক আয়াতুল্লাহ খোমেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের প্রথম প্রজন্মের নেতাদের অনুপস্থিতিতে আরাফি এখন দেশটির ক্ষমতা কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ।
শোকে মুহ্যমান তেহরান, অনিশ্চিত মধ্যপ্রাচ্য
১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির প্রয়াণের পর ক্ষমতায় বসেছিলেন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘতম মেয়াদের এই রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শিয়া রীতি মেনে ‘আরবাইন’ পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এই দ্বিতীয়বার শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটছে ইরানে, যা সমগ্র পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
অন্তর্বর্তী নেতা: আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি।
পরিচালন পরিষদ: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি ও আরাফি।
মার্কিন অভিযান: অপারেশন এপিক ফিউরি (যৌথভাবে মার্কিন-ইসরায়েল)।
শোকের মেয়াদ: ৪০ দিন।








