ভারত এবং ইইউর মধ্যে মুক্ত বানিজ্য চুক্তি কতটা সুবিধা বয়ে আনবে?

ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পরে, উভয় পক্ষ একে অপরকে মোস্ট ফেওয়ার্ড নেশন (এমএফএন) মর্যাদা দেবে। এর অর্থ হল উভয় পক্ষই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য থাকবে এবং বিশ্বব্যাপী নিয়মকানুন ছাড়িয়ে কোনও নতুন রপ্তানি-আমদানি বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে না।

প্রায় দুই দশক ধরে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এই চুক্তিতে পৌঁছানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটিকে পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য একটি নতুন নীলনকশা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন এটিকে ২ বিলিয়ন মানুষের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা বিশ্বের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইউরোপীয় বাজারগুলি ভারতের জন্য সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত থাকবে

এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য মূল্যের ভিত্তিতে ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার বা হ্রাস করা হবে। ইইউ তার বাজারের ৯৯.৫ শতাংশ ভারতের জন্য উন্মুক্ত করবে। বেশিরভাগ পণ্যের উপর শুল্ক অবিলম্বে অথবা সর্বোচ্চ সাত বছরের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। ভারত বাণিজ্য মূল্যের ভিত্তিতে ৯৬ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করবে।

কৃষি খাতকে এই চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে

আগামী ১০ বছর ধরে এই প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য উভয় পক্ষই দুগ্ধ, চাল, চিনি এবং গরুর মাংসের মতো সংবেদনশীল কৃষি খাতকে এই চুক্তি থেকে বাদ দিয়েছে। এই চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বস্ত্র, চামড়া, রত্ন ও গয়না এবং সামুদ্রিক খাবারের ভারতীয় রপ্তানিকারকরা তাৎক্ষণিকভাবে ইউরোপীয় বাজারে শূন্য-শুল্ক প্রবেশাধিকার পাবেন।

ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা রয়েছে

অন্যদিকে ইউরোপীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক এবং ওয়াইন উৎপাদনকারীরা ভারতীয় বাজারে উল্লেখযোগ্য শুল্ক হ্রাসের ফলে উপকৃত হবেন। অনুমান করা হচ্ছে যে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইউরোপীয় রপ্তানি দ্বিগুণ হবে, যার ফলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় করবে। শুল্কের পাশাপাশি, WTO-এর সাথে খাদ্য নিরাপত্তা সামঞ্জস্য করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানো হয়েছে।

তদুপরি, উভয় পক্ষই ডিজিটাল বাণিজ্য সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে, উভয় দেশই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং আন্তঃসীমান্ত তথ্য প্রবাহের উপর তাদের নিজ নিজ অধিকার বজায় রাখবে।