পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আজ প্রকাশ: তালিকায় নাম দেখবেন যেভাবে

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, সংশোধন এবং নাম বাদ দেওয়ার যে দীর্ঘ প্রক্রিয়া গত চার মাস ধরে চলছিল, তার চূড়ান্ত ফলাফল আজ জনসমক্ষে আসতে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সংশোধিত তালিকায় বর্তমানে মোট ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম নিবন্ধিত রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জাল ভোটার রুখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, প্রায় ৬৬ লক্ষ এন্ট্রি বা নামকে ‘বাতিল’ (Deleted) অথবা ‘বিচারাধীন’ (Under Adjudication) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন মৃত্যুজনিত কারণে নাম বিয়োজন, ঠিকানা পরিবর্তন অথবা একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম থাকা। কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনী তালিকা নির্ভুল করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। যারা দীর্ঘকাল এক জায়গায় অনুপস্থিত বা যারা পরলোকগমন করেছেন, তাদের নাম পদ্ধতিগতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সাধারণ ভোটাররা কীভাবে তাদের নাম তালিকায় রয়েছে কি না তা যাচাই করবেন, তা নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। ভোটাররা ভারতের নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (voters.eci.gov.in) অথবা ন্যাশনাল ভোটারস সার্ভিস পোর্টাল (NVSP)-এ গিয়ে সরাসরি নাম পরীক্ষা করতে পারবেন। এর জন্য তাদের কাছে ভোটার আইডেন্টিটি কার্ডের নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। অনলাইনে চেক করার পাশাপাশি, ভোটাররা তাদের স্থানীয় বিডিও অফিস, মহকুমা শাসকের দফতর অথবা সরাসরি বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) কাছে গিয়েও তালিকার হার্ড কপি দেখে নাম নিশ্চিত করতে পারবেন। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, যদি কোনো ভোটারের নাম ভুলবশত বাদ পড়ে থাকে, তবে তাদের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংশ্লিষ্ট ভোটাররা পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। কমিশনের মতে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও যদি কোনো যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে তারা ফর্ম ৬ পূরণ করে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। যারা নতুন ভোটার বা যাদের বয়স সম্প্রতি ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তারা এই ডিজিটাল এবং অফলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে পারবেন। আজ থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও ব্লকে এই সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিকেও এই তালিকার প্রতিলিপি দেওয়া হবে যাতে তারা বুথ ভিত্তিক তথ্য যাচাই করতে পারে। সামনেই রাজ্যে বড় মাপের নির্বাচনের আসর বসতে চলেছে, আর তার আগেই ভোটার তালিকার এই নির্ভুলীকরণ প্রক্রিয়াকে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ৬৬ লক্ষ নাম বাতিলের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হলেও কমিশন দাবি করেছে যে, প্রতিটি পদক্ষেপ আইনি এবং প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে। যদি কারও নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকে, তবে তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র পেশ করে তার নাগরিকত্ব ও স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ দিয়ে নাম পুনর্বহাল করতে পারবেন। ভোটারদের সুবিধার্থে হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে, যেখানে কল করে ভোটাররা তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। সার্বিকভাবে এই নতুন তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে রাজ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হলো বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে এই ডাটাবেসই হবে প্রধান ভিত্তি। ফলে সাধারণ নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন অতিসত্বর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় দেখে নেন।