কলকাতা: রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার উত্তর কলকাতার বাসভবনে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। গত কয়েকদিন ধরেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের তৎপরতা তুঙ্গে ছিল। আজ পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান রেকর্ড করার পর এই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হামলার পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির জানলা লক্ষ্য করে কে বা কারা পাথর ছুড়েছিল, সেই রহস্য উন্মোচনে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা কাজ করছে। এর আগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল, তবে নতুন করে এই ৫ জনের গ্রেফতারি মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই বলছেন যে রাতে বাইকে করে এসে কিছু দুষ্কৃতী এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে এলাকা জুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। মন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আগের তুলনায় অনেক বেশি আঁটোসাটো করা হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। পাথর ছোড়ার ফলে জানলার কাঁচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই সময় বাড়িতে মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও এই ঘটনায় কেউ আহত হননি, তবে জনবহুল এলাকায় একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর বাড়িতে এহেন হামলার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে একটি বিশেষ দল গঠন করে পুরো ঘটনার পুনর্গঠন করার চেষ্টা চলছে।
বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলে সরব হলেও, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি এটি পরিকল্পিত হামলা। ধৃতদের মধ্যে কেউ স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়টিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। ধৃতদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ওপর নজর রাখা হচ্ছে যাতে কোনো উস্কানিমূলক তথ্য পাওয়া যায় কি না তা বোঝা যায়। আগামী কয়েকদিন এই এলাকায় টহলদারি বজায় রাখবে পুলিশ বাহিনী। এলাকার সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক দূর করতে সিভিক ভলান্টিয়ারদের মোতায়েন করা হয়েছে।
শশী পাঁজা নিজে এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও, তাঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে আইনের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এলাকা ভিত্তিক কোনও গোলমাল বা আক্রোশের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ধৃতদের পরিচয় এখনই প্রকাশ্যে আনা হয়নি তদন্তের স্বার্থে। পুলিশ মনে করছে এই ৫ জনকে জেরা করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া সম্ভব হবে। গোটা শ্যামপুকুর থানা এলাকা জুড়ে চিরুনি তল্লাশি চলছে যাতে জড়িত বাকিদেরও দ্রুত ধরা যায়।








