India Sourcing Oil: ৪০টি দেশ থেকে তেল কিনছে ভারত, তৈরি বিকল্প পথও

India Sourcing Oil From 40 Nations By Alternate Routes

নয়াদিল্লি: ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির হামলায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত থমকে গিয়েছে। এই প্রণালীটি বিশ্বের খনিজ তেল পরিবহণের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে দেশের শক্তি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভারত এখন কোনো একটি বা দুটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিশ্বের অন্তত ৪০টি ভিন্ন রাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে ভারতের তেল আমদানি হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পথটি অসুরক্ষিত হয়ে পড়ায় বিকল্প পথের সন্ধান শুরু করেছে ভারত সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখেই ভারতের এই কৌশলগত পরিবর্তন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হবে এবং দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ভারত ইতিমধ্যেই আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরবরাহের বৈচিত্র্য আসবে, তেমনই সংকটের মুহূর্তেও দেশের অভ্যন্তরে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

বর্তমানে ভারত সরকার রাশিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের থেকেও বিপুল পরিমাণ তেল ক্রয় করছে। এই বিচিত্র উৎস থেকে তেল আমদানির ফলে কোনো একটি অঞ্চলের যুদ্ধ বা অশান্তি ভারতের জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারবে না। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক জাহাজকে এখন আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। এতে পরিবহণ খরচ বাড়লেও, দেশের চাহিদা মেটাতে ভারত সবরকম চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের আধিকারিকদের মতে, ভারতের এই আগাম প্রস্তুতি দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। ৪০টি দেশের এই তালিকা দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে ভারতকে জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। কিন্তু ভারত গত কয়েক বছরে যেভাবে তার আমদানিকারক দেশের তালিকায় বৈচিত্র্য এনেছে, তাতে সাধারণ মানুষের চিন্তার বড় কোনো কারণ নেই। জলপথে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং নিরাপদ বাণিজ্য বজায় রাখতে ভারতীয় নৌসেনাও বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ আলোচিত হচ্ছে। দেশের সাধারণ গ্রাহকদের যাতে জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই বহুমুখী আমদানি নীতি কার্যকর করা হয়েছে।